Saturday, November 30, 2019

‘আমরা ভেবেই নিয়েছিলাম ইলিয়াস কাঞ্চন আর বেঁচে নেই’


চম্পা নামেই দেশজুড়ে পরিচিত। অসম্ভব মেধাবী একজন অভিনেত্রী তিনি। পাঁচবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। আরও বহু পুরস্কার উঠেছে তার হাতে। প্রায় ২০০ সিনেমা করেছেন তিনি। ভারতীয় সিনেমা করেছেন ১৫টি। ভারতে জ্যোতি বসু পুরস্কার, বেঙ্গল জার্নালিস্ট অ্যাওয়ার্ড এবং টেলিসিনে অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন ‘তিন কন্যা’-খ্যাত অভিনেত্রী। চম্পা ডেইলি স্টারকে বলেছেন তার না বলা কিছু কথা।
“এফডিসিতে যাওয়ার স্মৃতিটা এখনো চোখে ভাসে। আসলে সিনেমা করার আগেই আমি এফডিসিতে যাতায়াত শুরু করি। আমার বড় দুই বোন সুচন্দা ও ববিতা যেহেতু আগে থেকেই সিনেমায় ছিলেন, তাই তাদের জন্যই আমারও যাওয়া হয় এফডিসি দেখতে।
আমার স্মৃতিতে ভাসে- আলো ঝলমলে এফডিসি। কী চমৎকার পরিবেশ। তখন অনেক কালারফুল ছিলো এফডিসি! কখনো কখনো সারারাত শুটিং করতেন আমার দুই বোন। আমি সারারাত জেগে শুটিং দেখতাম। ওই দৃশ্য কখনও ভুলবার নয়।
সিনেমা করতে প্রথম এফডিসিতে যাই আরও পরে। আমার প্রথম সিনেমা ‘তিন কন্যা’। সেটির জন্য যখন এফডিসিতে ঢুকলাম, সে অনুভূতি ছিলো ভিন্ন। বাসা থেকে একটি মাত্র সিনেমা করার অনুমতি পেয়েছিলাম। প্রথম দৃশ্যটার কথা মনে পড়ে। প্রথম দৃশ্যে কোনো সংলাপ ছিলো না। কেবল হেঁটে হেঁটে আসার একটি দৃশ্য ছিলো। এক টেকেই ওকে হয়েছিলো।
ওই সময়ে সিনিয়রদেরকে দেখতাম সবার সঙ্গে কী সুন্দর সুসম্পর্ক বজায় রাখছেন। শুটিংয়ের ফাঁকে তারা কথা বলতেন। ওটাকে আড্ডা বলবো না। গল্পগুলোও ছিলো অভিনয় নিয়ে। পরের দৃশ্য কী হবে তা নিয়ে কথা হতো। একটি সিনেমা কী করে ভালো করা যায় তা নিয়ে সবাই কথা বলতেন। সিনিয়ররা একজন আরেকজনকে সম্মান করতেন খুব।
অভিনয় জীবনে কতো স্মৃতি আছে। ‘ভেজা চোখ’ সিনেমার কথা মনে পড়ছে। ওই সময়ে ‘ভেজা চোখ’ খুব হিট হয়েছিলো। সবাই অনেক ভালোভাবে গ্রহণ করেছিলেন সিনেমাটি। ‘ভেজা চোখ’ সিনেমার শুটিং করেছিলাম তাজমহলের সামনে, মশৌরীতে এবং আমাদের দেশে।
তাজমহলের সামনে শুটিং করতে গিয়ে খুব সমস্যা হতো। প্রচণ্ড গরম ছিলো তখন। ডাক্তার সঙ্গেই থাকতেন। একটি দৃশ্য করে এসে প্রেসার মাপা হতো। স্যালাইন খাওয়া হতো। অনেক কষ্ট করে ‘ভেজা চোখ’ সিনেমার শুটিং করি। এই সিনেমার কিছু দৃশ্য ছিলো আমাদের দেশের হিমছড়িতে। আমি নিচে আর ইলিয়াস কাঞ্চন পাহাড়ের ওপরে। হঠাৎ ইলিয়াস কাঞ্চন পাহাড় থেকে পড়ে যান। আমরা ভেবেই নিয়েছিলাম তিনি আর বেঁচে নেই। কিন্তু, ওপরঅলার রহমতে তিনি বেঁচে যান। এসব কথাও মনে পড়ে।
‘বিরহ ব্যথা’ সিনেমার কথা মনে পড়ে। বঙ্কিম চন্দ্রের ‘বিষবৃক্ষ’ উপন্যাস থেকে নেওয়া হয়েছিলো গল্পটি। ‘বিরহ ব্যথা’ সিনেমাটিও সেসময় সুপারহিট হয়েছিলো। তখন অভিনয় অতোটা বুঝতাম না। কঠিন চরিত্র ছিলো। আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে কাজটি করেছিলাম। বিক্রমপুরে এক জমিদার বাড়িতে ও আশপাশে শুটিং করেছিলাম। শুটিং করার সময় গ্রামের মানুষরা দেখতে আসতেন। আলাদা সম্মান করতেন। তারপর কষ্ট করে কাজটি শেষ করলাম এবং সিনেমাটি মুক্তি পেলো। এরপর তো গল্পটা অন্যদিকে গেলো। কেননা, সিনেমাটি ব্যবসাসফল ছিলো।
জনপ্রিয়তা এক সময় বেড়ে যায়। একটির পর একটি সিনেমা করে চললাম। মনে আছে, সেসময় ঢাকার বাইরে শুটিং করতে গেলেই অসম্ভব ভিড় হতো। গ্রামের পর গ্রাম থেকে মানুষ দেখতে আসতেন। অনেকবার এমন হয়েছে- ভিড়ের কারণে শুটিং স্পটে পুলিশ আনতে হয়েছে। পুলিশ আনার পরও কাজ হয়নি। শেষে শুটিং বন্ধ করে চলে আসতে হয়েছে। এসব ঘটনা এখনো চোখে ভাসে অবসর সময়ে।
খুব করে মনে পড়ে প্রথম নায়িকা হওয়ার সিনেমাটির কথা। ‘নিষ্পাপ’ সিনেমায় প্রথম নায়িকা হই আমি। নায়ক আলমগীরের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে সিনেমাটি নির্মাণ করা হয়েছিলো। এটি মুক্তির পর শুরু হয়ে যায় খুশির খবর। এতো এতো মানুষ সিনেমাটি দেখেছেন, কী আর বলবো!
নায়িকা হিসেবে আমার জার্নিটা ছিলো আনন্দের। নায়ক আলমগীর বলতেন, ‘নিষ্পাপ’ সিনেমাটি হচ্ছে তার প্রোডাকশনের সোনার হাঁস, যে শুধু সোনার ডিম দেয়। আসলে ‘নিষ্পাপ’ করার পর সিনেমার সঙ্গে লতার মতো জড়িয়ে গেলাম।
বাসা থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম একটি সিনেমার। কিন্তু, ‘নিষ্পাপ’ সিনেমার সাফল্য আমাকে সিনেমার মোহে ফেলে দেয়। তারপর আর বের হতে পারিনি। এখনো সিনেমার সঙ্গেই আছি। থাকতে চাই আরও অনেকদিন।
আনন্দধারা।

Thursday, November 28, 2019

শাকিব-বুবলীর 'বীর' ছবির শুটিং শুরু



শাকিব খান ফিল্মস [এসকে ফিল্মস] প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় সিনেমা 'বীর'-এর শুটিং শুরু হয়েছিল জুলাইয়ে। বিরতির পর গতকাল সকাল থেকে পুবাইলে আবারও শুরু হয়েছে এ ছবির শুটিং। এতে অংশ নিয়েছেন শাকিব খান। তবে ছবির নায়িকা বুবলী ৩ ডিসেম্বর থেকে শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে নির্মাতা জানিয়েছেন।

শাকিব খান বলেন, বিরতির পর অবশেষে শুরু হয়েছে 'বীর'-এর শুটিং। সপ্তাহ দুয়েক টানা কাজ চলবে। ছবির গল্পটি অসাধারণ, যা ছবিটি অন্য ছবি থেকে আলাদা করে। এখানে আমাকে নতুন লুকে দেখা যাবে। আশা করছি, ছবিটি দর্শকদের আনন্দ দেবে।'

এফডিসিতে 'বীর' ছবির প্রথম ধাপে শাকিব খান শুটিংয়ে অংশ না নিলেও তার ছোটবেলার কিছু অংশের দৃশ্য ধারণ করা হয়। টানা তিন দিন চলে সেখানে শুটিং। এর পর বন্ধ থাকে ছবির কাজ।

'বীর' পরিচালনা করছেন কাজী হায়াৎ। এ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার শাকিব খানকে নিয়ে কাজ করছেন তিনি। গত বছরের শেষের দিকে শুটিং শুরুর কথা ছিল ছবির। কিন্তু তখন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন কাজী হায়াৎ। চিকিৎসা নিতে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছিলেন তিনি। 
 
Samakal

মান্না দে জন্মশতবর্ষের বিশেষ আয়োজন


মান্না দে জন্মশতবর্ষের বিশেষ আয়োজন
মান্না দে [১৯১৯-২০১৩]
ভারতীয় উপমহাদেশের কালজয়ী সংগীতশিল্পী মান্না দের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশের ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার। মান্না দে স্মরণে এ অনুষ্ঠানে থাকবে ভারতের শিল্পী ডা. অমিতাভ চন্দ, বাংলাদেশের শিল্পী মৃদুলা সমাদ্দার এবং আবৃত্তি শিল্পী সামিউল ইসলাম পোলাকের পরিবেশনা। আজ গুলশান অ্যাভিনিউয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় হবে এ অনুষ্ঠান। ভারতীয় হাইকমিশনের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। মান্না দে উপমহাদেশের সেরা সংগীতশিল্পীদের একজন। তার প্রকৃত নাম প্রবোধ চন্দ্র দে। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ অনেক ভাষায় তিনি ৬০ বছরেরও অধিক সময় সংগীতচর্চা করেছেন। ১৯১৯ সালে ভারতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ২০১৯ সাল মহান এই শিল্পীর জন্মশতবর্ষ। সংগীত জগতে অসামান্য অবদানের জন্য মান্না দে ভারত সরকার কর্তৃক ১৯৭১ সালে পদ্মশ্রী, ২০০৫ সালে পদ্মবিভূষণ ও ২০০৭ সালে দাদাসাহেব ফালকে সম্মাননা পেয়েছেন। 
 
Samakal

এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট

এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কনসার্ট
ক্যান্সারে আক্রান্ত বরেণ্য কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় সাহায্যার্থে যুক্তরাষ্ট্রে একটি কনসার্টের আয়োজন করা হচ্ছে। কনসার্টটি অনুষ্ঠিত হবে ২০ ডিসেম্বর নিউইয়র্কের কুইন্স প্যালেসে। সেখানে স্থানীয় শিল্পীরা ছাড়াও সংগীত পরিবেশন করবেন দেশের বেশ ক'জন তারকা শিল্পী। কনসার্টের আয়োজন করেছে শো টাইম মিউজিক। এর কর্মকর্তারা জানান, এন্ড্রু কিশোরের শরীরে যে ক্যান্সারের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে তার নিরাময় অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘকালীন। তাই বরেণ্য এই শিল্পীর পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে এই কনসার্টের আয়োজন করা। এ কনসার্ট থেকে প্রাপ্ত অর্থ এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসার জন্য তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এ বিষয়ে এন্ড্রু কিশোরের সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে এবং তিনি কনসার্ট নিয়ে কোনো আপত্তি করেননি বলেও আয়োজকরা জানান। কনসার্ট ছাড়াও এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় অনলাইনে তহবিল গঠনের জন্য আবেদন করেছেন তার স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু। 'গো ফান্ড মি' নামের ওয়েবসাইটে এটি করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে এন্ড্রু কিশোরের শিষ্য মোমিন বিশ্বাস জানান, এন্ডু্র কিশোর ক্যান্সারে আক্রান্ত শোনার পর হাসপাতালের চিকিৎসা বোর্ডের কাগজপত্র নিয়ে সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশিরা অনলাইন তহবিলের পেজ চালু করেন। কারণ সবাই জানেন, এই বিশাল অঙ্কের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা এন্ড্রু কিশোরের জন্য দুঃসাধ্য। তাই খ্যাতিমান এই শিল্পীর জন্য পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রবাসী বাঙালিরা তার জন্য অনলাইনে এই তহবিল খুলেছেন। বর্তমানে এন্ড্রু কিশোর সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তার লিমসুন থাইয়ের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। 
 
Samakal

১৮ বছর পর মঞ্চে নতুন নাটক নিয়ে ফিরছি

১৮ বছর পর মঞ্চে নতুন নাটক নিয়ে ফিরছি

প্রকাশ: ১২ ঘণ্টা আগে      
আসাদুজ্জামান নূর। বরেণ্য নাট্যজন। আজ সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় উদ্বোধন মঞ্চায়ন হবে 'কালো জলের কাব্য'। এই নাটকের প্রধান চরিত্র 'ভাঙারি'র ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। উইলিয়াম শেকসপিয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস' থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নাটকটির রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন পান্থ শাহরিয়ার। এই নাটকের প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। এই নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা বলেছেন তিনি-

দীর্ঘদিন পর নতুন নাটক নিয়ে মঞ্চে ফিরছেন। কেমন লাগছে?

ভালো লাগছে। আবার কিছুটা স্নায়ুচাপেও আছি। কারণ, মঞ্চে সর্বশেষ নতুন নাটকে অভিনয় করেছিলাম ২০০১ সালে, সারা যাকেরের নির্দেশনায় 'মুখোশ' নাটকে। এটি একটি বিদেশি নাটক থেকে রূপান্তর করেছিলেন সৈয়দ শামসুল হক। গত ১৮ বছরে নাগরিকের বেশ কয়েকটি পুরোনো নাটকের শোতে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু নতুন নাটকে অভিনয় করা হয়নি।

'কালো জলের কাব্য' নাটকে আপনার চরিত্রটা কী?

উইলিয়াম শেকসপিয়রের 'মার্চেন্ট অব ভেনিস'-এর মূল চরিত্র শাইলক। এই চরিত্রেই আমি অভিনয় করেছি। যেহেতু নাটকটি মার্চেন্ট অব ভেনিস থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখা হয়েছে। ফলে পুরোপুরি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে নির্দেশক তুলে ধরেছেন। ফলে দর্শক প্রথমেই মার্চেন্ট অব ভেনিসের সঙ্গে নাটকটির যোগসূত্র খুঁজে পাবেন না। ধীরে ধীরে যখন লোভ বা প্রতিহিংসার জায়গাগুলো পাওয়া যাবে, তখন উপলব্ধি হবে।

নাটকটি নিয়ে আপনার প্রস্তুতি কেমন ছিল?

একটি নতুন নাটকে অভিনয়ের জন্য যে পরিমাণ প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল, এই নাটকের ক্ষেত্রে তা একটু কম হয়েছে। আরও কিছুদিন সময় পেলে ভালো হতো। বিশেষ করে আমি আমার চরিত্রটি নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় আছি। কারণ, আমরা সব মিলিয়ে এক মাসের মতো নাটকটির মহড়া করেছি। মাঝে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ফিরে টানা মহড়ায় অংশ নিয়েছি। ফলে শরীরের ওপরও বেশ ধকল গিয়েছে। আর মঞ্চ নাটকে অভিনয় তো একটা টিম ওয়ার্কের বিষয়। দলের সঙ্গে যত বেশি সময় কাটানো যাবে, তত ভালো। দলের সঙ্গে নিজের ইন্টারেকশনটা ভালো হয়। চরিত্রটি গঠন করতে সুবিধা হয়। সবাই সবাইকে সহযোগিতা করতে পারে। ফলে আরও সময় পেলে চরিত্রটি আরও আত্মস্থ করা যেত।

এই বয়সেও এমন চরিত্রে অভিনয়ে রাজি হলেন...

বয়স বাড়ে, কিন্তু একরকম উদ্যম তো থাকেই। আর সেই উদ্যমের কারণেই কিন্তু এই নাটকে অভিনয় করতে রাজি হয়েছি। আমি চেষ্টা করেছি। এখন বাকিটা নির্ভর করছে দর্শকের ওপর।

এবার আসি ভিন্ন প্রসঙ্গে- আপনার কাছে জীবনের সংজ্ঞা কী?

জীবন নিয়ে কখনও পরিকল্পনা করিনি। একটা সময় ছাত্র রাজনীতি করতাম, এরপর মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিলাম। ফিরে এসে রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে চাকরির পাশাপাশি অভিনয় করলাম। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে পরিচয়, এরপর তিনি আমাকে আবারও রাজনীতিতে নিয়ে এলেন। এটা বলতে পারি, আমি যখন যেটা করেছি, মনোযোগ দিয়ে করেছি। ফলে বলা যেতে পারে, জীবন মানে সামনের দিকে এগিয়ে চলা।

জীবনে সাফল্যের জন্য কী প্রয়োজন?

সততা, পরিশ্রম আর লক্ষ্য। এই তিনটি জিনিস থাকলে মানুষ ঠিকই সফল হবে।

রাজনীতি, অভিনয় এবং ব্যবসা-প্রতিটি ক্ষেত্রেই আপনি সাফল্যের দেখা পেয়েছেন। একজন মানুষের পক্ষে এতকিছু কী করে সম্ভব?

প্রতিটি কাজের জন্য যদি আলাদাভাবে সময় ভাগ করে নেওয়া যায়, তাহলে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমি যেখানেই থাকি আগের দিন রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে ঠিক করে নিই পরের দিন কী কী করব। পরদিন সেটি অনুসরণ করার চেষ্টা করি। দেখা যায় আগের দিনের পরিকল্পনা মতো সব কাজ হয় না। কিন্তু বেশিরভাগ কাজই হয়। বাকিটা আবার পরের দিনের কাজের তালিকায় রাখি। এভাবেই প্রতিটি কাজের সমন্বয় করে নিই।

Samakal

দেবের ‘মিশন সিক্সটিন’


সাফটা চুক্তি কিংবা যৌথ প্রযোজনা নয়, বাংলাদেশের একক প্রযোজিত সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন কলকাতার নায়ক দেব। রাজধানীর একটি অভিজাত ক্লাবে আজ (২৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ওই সিনেমার ঘোষণা দেওয়া হবে।
পাশাপাশির তার অভিনীত ‘পাসওয়ার্ড’ বাংলাদেশে মুক্তি উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেবেন তিনি।
প্রথমবারের মতো টালিউডের এই নায়ক বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয় করতে যাচ্ছেন। একাধিক সূত্র ডেইলি স্টারকে জানায়, দেব অভিনীত সিনেমার নাম হবে ‘মিশন সিক্সটিন’। এককভাবে প্রযোজনা করতে যাচ্ছে ঢাকার শাপলা মিডিয়া। কলকাতায় মাসখানেক আগে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন দেব।
সিনেমার পরিচালক ও দেবের নায়িকা হিসেবে কে থাকবেন সেগুলো এখনও নিশ্চিত হয়নি। বাংলাদেশ থেকে নায়িকা কে থাকবেন সেটি দেব পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের ওপর।
‘মিশন সিক্সটিন’ হবে নিরেট বাংলাদেশের সিনেমা। কলকাতা থেকে শুধুমাত্র দেব অভিনয় করবেন। বাকি শিল্পী, নায়িকা, পরিচালক সবাই থাকবেন বাংলাদেশ থেকে। আগামী ডিসেম্বরের শেষ দিকে অথবা জানুয়ারির প্রথমে শুরু হবে এর শুটিং। বাংলাদেশ ও ব্যাংককে এ সিনেমার পুরো কাজ হবে।
বাংলাদেশের আন্ডারওয়ার্ল্ড এর গল্প ছবির কাহিনী। মাসখানেক আগে গল্পভাবনা দেব পছন্দ করেন। তখনই তিনি নিশ্চিত করবেন ‘মিশন সিক্সটিন’ করবেন। আগামী রোজার ঈদে সিনেমাটি মুক্তির সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।

আনন্দধারা

অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে এটিএম শামসুজ্জামান

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান আবারও গুরুতর অসুস্থ। তাকে আজ সোমবার (২৫ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অভিনেতার মেজ মেয়ে কোয়েল দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অভিনেতা গত তিন দিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন। তার পেটে ব্যথা ও গ্যাসের সমস্যা দেখা দিয়েছে।
অবস্থা গুরুতর হওয়ায় আজ সোমবার দুপুর ১২টায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে দেখার পর ভর্তির পরামর্শ দেন। পরে তাকে কেবিন ব্লকের ৩২২ রুমে ভর্তি করা হয়।
চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে প্রায় চার মাস পর গত ২৮ আগস্ট বাসায় ফিরেছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। আবারও অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হলেন। অভিনেতার জন্য দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন তার পরিবারের সদস্যরা।
এটিএম শামসুজ্জামান পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে পান রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদক।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একজন প্রযোজক, চিত্রনাট্যকার এবং নির্মাতা।
 আনন্দধারা
আনন্দধারা 

‘নায়ক রাজ রাজ্জাকের সামনে থর থর করে কাঁপছিলাম


ঢাকার সিনেমার সোনালি সময়ের নায়িকা ছিলেন রোজিনা। তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। অ্যাকশন, ফোক ও সামাজিক- এই তিন ধারার সিনেমায় নায়িকা হিসেবে তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। দুইবার পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। কলকাতায়ও বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয় করেছেন রোজিনা। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য গঠিত জুরি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন তিনি। রোজিনা তার ফেলে আসা জীবনের কথা বলেছেন দ্য ডেইলি স্টারের কাছে।
“নায়িকা হিসেবে ‘রাজমহল’ আমার প্রথম সিনেমা। নায়ক ছিলেন ওয়াসিম। ওয়াসিম তখন সুপারস্টার। আমি একেবারেই নতুন। আর নতুন হিসেবে এতোবড় নায়কের সঙ্গে অভিনয় করতে যাওয়া ছিলো বিশাল ব্যাপার। ১৯৭৭ সালে ‘রাজমহল’র শুটিং করি। মুক্তি পায় ১৯৭৮ সালে। তারপর সিনেমাটি ব্যাপক ব্যবসা করে। ‘রাজমহল’ আমার জীবনের গল্প বদলে দিয়েছিলো। জীবন বদলে যাওয়ার ঘটনাটিও আমার অভিনয় জীবনের স্মরণীয় একটি ঘটনা। এটি কখনই ভুলবো না।
আমার ও ওয়াসিমের বহু সিনেমা ব্যবসাসফল হয়েছিলো। কতো ঘটনা আছে আমাদের শুটিংকে ঘিরে। ‘বিনি সূতার মালা’ সিনেমাটির কথা বলি। কুয়াকাটায় শুটিং করেছিলাম। বিশ দিন ছিলাম। শুটিং শেষ করে যখন ফিরে আসবো, সবাই কান্নাকাটি করতে থাকি। এতোটাই পরিবারের মতো ছিলাম আমরা। এতোটাই বন্ধন ছিলো আমাদের। ‘বিনিসূতার মালা’ সিনেমার শুটিংয়েও এমন হয়েছে যে ভোররাত চারটায় উঠে মেকআপ নিতে বসে যেতাম। সকাল হওয়ার আগেই শুটিং শুরু করতাম।
সেসময় ‘বিনিসূতার মালা’ সিনেমাটি টানা কয়েক মাস ধরে চলেছিলো। এটিও আমার শিল্পী জীবনের বড় ঘটনা।
নায়ক রাজ রাজ্জাককে নিয়ে একটি ঘটনা আমার খুব মনে পড়ে। নায়ক রাজ তখন সবচেয়ে বড়  সুপারস্টার। তার সঙ্গে প্রথম অভিনয় করি ‘আয়না’ সিনেমায়। পরিচালক ছিলেন মোহসীন। এফডিসিতে শুটিং হবে। কল ছিলো সকাল সাতটায়। সকাল সাতটার আগেই চলে গেলাম শুটিং করতে। কিছুক্ষণ পর রাজ্জাক এলেন। রাজ্জাক সাহেবের সঙ্গে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ালাম। কিন্তু, আমি সংলাপ দিতে পারছি না। থরথর করে কাঁপছি। চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আজও খুব করে মনে পড়ে- নায়ক রাজের সামনে থর থর করে কাঁপছিলাম।
রাজ্জাক বুঝলেন, ভয়ে আমি এমনটি করছি। তিনি শুটিং বন্ধ করে দিলেন। আমার সঙ্গে গল্প করলেন। আমাকে বোঝালেন তিনিও নতুন ছিলেন। তার কথা শুনে আমি মুগ্ধ হলাম। আমি ইজি হয়ে গেলাম। তারপর সুন্দরভাবে শুটিং করলাম ‘আয়না’ সিনেমায়। একজন নতুনের জন্য রাজ্জাকের সহযোগিতাও আমি মনে রেখেছি।
মনে পড়ে, ‘নসিব’ সিনেমার কথা। মনে পড়ে ‘নালিশ’ সিনেমার কথা। মমতাজ উদ্দিন পরিচালক ছিলেন। আমার নায়ক ছিলেন উজ্জল। এই দুটি সিনেমায় আমাকে ঘোড়া দৌড়াতে হতো। সাভারে শুটিং করেছিলাম। সেসময় সিনেমার সবাই জানতেন, ঢাকার সিনেমায় আমি ছাড়া কোনো নায়িকা ঘোড়া চালাতে পারতেন না। পরিচালক মমতাজ উদ্দিন পছন্দ না হলে দৃশ্য ওকে করতেন না। একটি দৃশ্য দশবারও করতে হতো। ‘নসিব’ ও ‘নালিশ’ আমার অভিনয় জীবনের বিখ্যাত দুটি সিনেমা।
মনে পড়ে, একটা সময় ছিলো যখন আমার নামের ওপর ঢাকার সিনেমা চলতো। ‘সুলতানা রাজিয়া’, ‘তুফান মেইল’ … আরও কতো সিনেমা চলেছে আমার নামের ওপর। এসব আমার শিল্পী জীবনকে সবার মাঝে নিয়ে গেছে। মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি প্রবলভাবে।
আবার একটা সময়ে অ্যাকশন সিনেমার নায়িকা থেকে হঠাৎ সামাজিক সিনেমা করতে শুরু করি। তখন অনেকেই বলাবলি করতেন আমার ক্যারিয়ার শেষ। কিন্তু, না। ‘কসাই’ সিনেমা দিয়ে শুরু করি সামাজিক সিনেমা। আমজাদ হোসেনের মতো বিখ্যাত পরিচালক বানালেন ‘কসাই’। এটিও সুপারহিট হলো। আমি পেলাম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
‘তাসের ঘর’, ‘সাহেব’-সহ অনেক সামাজিক সিনেমায় অভিনয় করেছি। নায়ক ফারুকের সঙ্গে সামাজিক সিনেমায় আমার জুটি গড়ে উঠে। সামাজিক সিনেমা করেও আমি ক্যারিয়ার ধরে রেখেছিলাম সফলতার সঙ্গেই। ‘তাসের ঘর’ সিনেমাটি অনেকদিন ধরে সিনেমা হলে চলেছিলো। সেসব ঘটনা আমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মনে থাকবে।
আবার এই আমি ফোক সিনেমা করেও জয় করে নিলাম সবার মন। ‘সাগরভাসা’, ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আলোমতি প্রেম কুমার’, ‘কুচবরণ কন্যা’ ইত্যাদি। এসব ফোক সিনেমা আমাকে নতুনভাবে সবার কাছে পরিচয় করিয়ে দেয়।
পেছনে ফিরে তাকালে আরও একটি ঘটনা মনে পড়ে। ভারতের নামকরা নায়ক মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে একটি সিনেমা করেছিলাম নায়িকা হিসেবে। ওটা ছিলো কলকাতার সিনেমা। নাম ছিলো ‘অন্যায় অবিচার’। ওই সিনেমাটিও আমাকে বিদেশের মাটিতে শিল্পী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়।
শিল্পী জীবনে এসব কতো ঘটনাই তো আছে। সেসব সুখের গল্প নিয়েই বেঁচে আছি। বেঁচে থাকতে চাই মানুষের হৃদয়ে।”
আনন্দধারা 

‘সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করা অতো সহজ ছিলো না’


স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত প্রথম সিনেমা ‘ন ডরাই’ আজ (২৯ নভেম্বর) মুক্তি পাচ্ছে। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন শরিফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল। সার্ফিং নিয়ে বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম সিনেমা এটি।
চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত ‘ন ডরাই’র চিত্রনাট্য লিখেছেন কলকাতার শ্যামল সেনগুপ্ত। মুক্তির কয়েকদিন আগে ছবিটির প্রধান দুই অভিনেতা শরিফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামালের সঙ্গে কথা হয় দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের।
সার্ফিং নিয়ে নির্মিত ‘ন ডরাই’-ছবিতে কাজের প্রস্তুতি কেমন ছিলো?
শরিফুল রাজ: ছবির পরিচালক অংশু ভাই আমাকে ছবিতে নেওয়ার পরই ট্রেনিংয়ে যাই। কারণ, সার্ফিং পারতাম না। সাঁতার ভালো পারি, কিন্তু সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে খেলা করা অতো সহজ ছিলো না। যারা সার্ফার তারা ছোট থেকেই শেখে। কিন্তু, আমাকে শিখতে হয়েছে তিন মাসে। ট্রেনিংয়ের সময় বড়বড় ঢেউ গেছে আমার উপর দিয়ে। বড় কোনো এক্সিডেন্ট হতেও পারতো!
সুনেরাহ বিনতে কামাল: ‘ন ডরাই’ সিনেমার প্রত্যেকেই অত্যন্ত মেধাবী। তাদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে অনেককিছু শিখেছি। এমন একটি চমৎকার সিনেমা দিয়েই ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখতে চেয়েছিলাম। আমার সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। টিমের সবার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। সার্ফি শেখার জন্য অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে আমাকে।
চট্টগ্রামের স্থানীয় ভাষাও তো শিখেতে হয়েছে?
শরিফুল রাজ: এটি কক্সবাজারের গল্প। তাই সেখানকার ভাষা শেখা অবধারিত ছিলো। ভাষা শেখার জন্যও ফাইট করতে হয়েছে। এজন্য একজন ভালো মেন্টর পেয়েছিলাম। হয়তো সেখানকার ভাষায় কথা বলতে পারবো না, তবে স্ক্রিপ্টে যা ছিলো তা রপ্ত করেছিলাম। কাজের পর আরেক চ্যালেঞ্জ ছিলো পরিচালক, মেন্টর হ্যাপি কী না! শেষ পর্যন্ত তারা হ্যাপি হয়েছেন। ‘ন ডরাই’ আমার জীবনের অন্যতম একটি সেরা ভ্রমণ।
সুনেরাহ বিনতে কামাল: ‘ন ডরাই’ বাংলাদেশের নতুন বিষয়বস্তু। এই বিষয়ে বাংলাদেশে আগে কখনও সিনেমা হয়নি। আর চট্টগ্রামের ভাষা শেখার জন্য অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। ছবির চরিত্র আয়েশা হওয়ার প্রাণপণ চেষ্টা করেছিলাম। আমাকে এমন একটি চরিত্রে নেওয়ার জন্য পরিচালককে ধন্যবাদ।
‘ন ডরাই’ ছবি নারী-প্রধান। ছবিতে আপনার চরিত্রের বিশেষত্ব কী?
শরিফুল রাজ: নারীর সম্মানের জায়গাটা আমার কাছে অনেক। যখন গল্প হাতে পাই, তখন নারী-প্রধান গল্প কী না সেভাবে নেইনি। আমার চরিত্রের জায়গাটা দেখেছি। দেখলাম আমার চরিত্রটি ঠিকঠাক আছে। আমি অভিনেতা হবো। অভিনয় করতেই আমার মন চায়। এটিই আমার পেশা। ছবির ‘যন্ত্রণা’ গানটা মুক্তির পর ক্লাস ফোর-ফাইভে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাকে জানিয়েছে, গানটি তাদের ভালো লেগেছে। তারা টাকা জমাচ্ছে। তাদের স্কুলের ম্যাডামকে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়ে ‘ন ডরাই’ দেখবে।
‘ন ডরাই’ দেখতে মানুষ কেনো হলে আসবে বলে মনে করেন?
শরিফুল রাজ: ছবিটির জন্য অনেক কষ্ট করেছি। চরিত্র হয়ে উঠার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় ভাষা, স্থানীয়দের জীবনযাপন নিজের মধ্যে ধারণের চেষ্টা করেছি। আমার ধারণা, নতুন ধরনের এই ছবি মানুষ আপন করে নিবে।
সুনেরাহ বিনতে কামাল: ‘ন ডরাই’ ছবির গল্প মানুষকে হলে নিয়ে আসবে। কারণ, আমাদের সিনেমার দর্শকরা যেমন গল্প চান ‘ন ডরাইতে’ তেমনটি রয়েছে। তার উপর এমন বিষয়বস্তু নিয়ে বাংলাদেশে আগে কখনও সিনেমা হয়নি। সেই কারণে দর্শকরা হলে আসবেন বলে আমার বিশ্বাস।

আনন্দধারা 

‘এদেশে এসে ইলিশ খাওয়া হবে না তা কি হয়?’


ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় তারকা। বাংলাদেশেও বেশকিছু সিনেমা করেছেন। তিনি এখন বাংলাদেশে। কয়েকদিন হলো বাংলাদেশে নতুন একটি সিনেমার শুটিং করছেন। নোয়াখালীর একটি প্রত্যন্ত এলাকায় চলছে সেই শুটিং। সিনেমার নাম ‘গাঙচিল’। নঈম ইমতিয়াজ নেয়ামুল সিনেমাটি পরিচালনা করছেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে ডেইলি স্টারের সঙ্গে কথা বলেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা।
কবে এসেছেন বাংলাদেশে?
এই তো অল্প কয়েকদিন হলো। ‘গাঙচিল’ নামের একটি সিনেমা করার জন্য এসেছি। নোয়াখালী জেলার একটি গ্রামে শুটিং করছি। আগামী ২৯ তারিখে দেশে ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
কেমন লাগছে বাংলাদেশের গ্রামে শুটিং করতে?
ভীষণ ভালো লাগছে। অসম্ভব সুন্দর একটি গ্রাম। নদী আছে। প্রচুর সবুজ গাছপালা। সবুজটা আমাকে দারুণ আকর্ষণ করছে। নদীটাও। সহশিল্পী হিসেবে ফেরদৌস ও পূর্ণিমাকে পেয়েছি। এজন্য আরও ভালো লাগছে।
বাংলাদেশের ইলিশের কথা তো জানেন, এবার এসে ইলিশের স্বাদ নিয়েছেন?
অবশ্যই। বাংলাদেশে এসে ইলিশ খাওয়া হবে না, তা কি হয়? তাজা ইলিশ আনা হয়েছিলো। সেই ইলিশ খেয়েছি। অনেক স্বাদ। এছাড়াও, কুমিল্লা থেকে রসমালাই আনা হয়েছিলো। খেয়েছি- সত্যি, ভীষণ মজার।
‘গাঙচিল’ সিনেমায় আপনাকে কীভাবে দেখা যাবে?
‘গাঙচিল’-এ আমি অভিনয় করবো বিজলী চরিত্রে। সবটুকু না বলি। এটুকু বলি বিজলী অনেক সুন্দর একটি চরিত্র। কাজ করার সুযোগ আছে। স্পেশাল চরিত্রও বলতে পারেন। দর্শকদের ভালো লাগা দিতে পারার সুযোগ আছে।
যতো দূর জানি ঢাকার আরও একটি সিনেমায় কাজ করবেন…
ঠিকই বলেছেন। ওই সিনেমাটি নায়ক মান্নার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে নির্মিত হচ্ছে। নায়ক মান্নার সঙ্গেও আমার সুসম্পর্ক ছিলো। তার স্ত্রী শেলী আমাকে কাজটি করার জন্য বলেছেন। সিনেমার নাম ‘জ্যাম’। আবারও আসতে হবে ওই সিনেমার জন্য।
এদেশের কোন বিষয়টি আপনাকে বেশি আকর্ষণ করে?
এখানকার মানুষের আতিথেয়তা। এখানকার খাবার। বিশেষ করে এখানকার মানুষের আন্তরিকতা ও আতিথেয়তাটাই আমাকে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। এটা ভুলবার নয়।
কলকাতায় আপনি কতোটা ব্যস্ত সিনেমা নিয়ে?
অনেক ব্যস্ত। বেশ কয়েকটি সিনেমা আমার হাতে রয়েছে। সম্প্রতি ওখানে নতুন একটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। আমি এদেশেও সিনেমা করতে চাই। শিল্পীর কাজই তো অভিনয় করা। নিজ দেশের পাশাপাশি এখানকার ভালো কিছু কাজে নিজেকে দেখতে চাই।
আনন্দধারা 

‘অনেক মেয়েকে দেখেছি বোরখা পরে লুকিয়ে সার্ফিং করে’


বাংলাদেশে প্রথমবার সার্ফিং নিয়ে নির্মিত ছবি ‘ন ডরাই’ আগামী ২৯ নভেম্বর মুক্তি পাবে। স্টার সিনেপ্লেক্স প্রযোজিত প্রথম সিনেমাটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় নির্মিত হয়েছে। এটি পরিচালনা করেছেন তানিম রহমান অংশু। ‘ন ডরাই’ ছবিটি মুক্তির আগে পরিচালক ছবিটির অনেক বিষয় ভাগাভাগি করলেন দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনের সঙ্গে।
‘ন ডরাই’ চলচ্চিত্রের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করার প্রথম কারণটা কী?
প্রথমত ছবির গল্প এবং চিন্তা ভাবনাটা আমার কাছে একেবারে নতুন লেগেছিলো। তারপর গত তিন বছর ধরে এই ছবিটির গল্প নিয়ে ঘষামাজা করা হয়েছে। শুটিংসহ চার বছর এই গল্পের সঙ্গে ছিলাম। এছাড়াও, সার্ফিং বিষয়টি আমার নিজের কাছেও অনেক অজানা ছিলো। গল্প নিয়ে কাজ করতে করতে গিয়ে অবাক হয়েছি।
কোন বিষয়গুলো অবাক করেছিলো?
কক্সবাজারে সার্ফিং নিয়ে যে কমিউনিটি আছে এ বিষয়টিই জানতাম না। সেখানে চার-পাঁচটা সার্ফিং ক্লাব আছে। যারা সার্ফিং করে তাদের অনেকেই কষ্ট করেন। তাদের অনেকেই দুবেলা খেতে পারুক বা না পারুক একবেলা সার্ফিং ঠিকই করবে। সেখানকার সাধারণ মানুষজন এটি পছন্দ করেন না। যেখানে ছেলেদেরই সার্ফিং করাই পছন্দ করা হয় না, সেখানে অনেক মেয়েকে দেখেছি বোরখা পরে লুকিয়ে সার্ফিং করেছে। বিষয়গুলো আমাকে অবাক করেছে। তাদের এই কষ্টগুলো খুব স্পর্শ করেছে।
সেন্সর বোর্ডের সদস্যরা ছবিটি দেখে প্রশংসা করলেও কিছু সংলাপ নিয়ে আপত্তি করেছিলেন?
সেন্সর বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী আমাদের কিছু দিক-নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও কারেকশনগুলো খুব বেশি না, ছবির সৌন্দর্য যেনো নষ্ট না হয় সেভাবেই আমরা দর্শকের সামনে ‘ন ডরাই’ উপস্থাপন করবো।
স্টার সিনেপ্লেক্সের প্রথম প্রযোজিত ছবি পরিচালনা করেছেন? কেমন লাগছে?
একটা ভালোলাগা অবশ্যই আছে। তার জন্য মাহবুব রহমান রুহেল ভাই, জেফার সবার কাছে আমার অনেক কৃতজ্ঞতা। তারা অনেক বিষয়ে সাহায্য করেছেন ছবিটি তৈরি করার বিষয়ে। আমার মধ্যে অনেক ভালো লাগা ছড়িয়ে আছে। এখন দর্শক ছবিটি দেখলে আরও ভালো লাগবে।
ছবির প্রধান দুই অভিনেতা শরিফুল রাজ ও সুনেরাহ বিনতে কামাল সম্পর্কে কিছু বলেন…
গল্পের চরিত্রটি নিয়ে যখন কাস্টিং বিষয়ে ভাবছিলাম তখন শরিফুল রাজের কথা আমার বারবার মনে হচ্ছিলো। এটা যে ধরনের চরিত্র এটা রাজ ছাড়া আর কাউকেই ভাবতে পারছিলাম না। আর সুনেরাহ কীভাবে চরিত্রের সঙ্গে মিলেমিশে গেছে ছবি না দেখলে তা বোঝা যাবে না। চরিত্র হয়ে উঠতে খুব কষ্ট করেছে দুজনই। পাঁচ-ছয় মাস ধরে তারা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা শিখেছেন।
‘ন ডরাই’ ছবিটি দর্শকরা কেনো দেখবেন বলে মনে করেন?
দর্শকরা ছবিটি দেখবেন তার প্রথম কারণ হলো, এটি নতুন দিনের গল্প। এই গল্পগুলো সবার জানা উচিত। ‘ন ডরাই’ শব্দের মানে হলো ‘ভয় করি না’। ছবিতে সমাজ ও পরিবারের ভয়কে জয় করা এক নারীর গল্প তুলে ধরা হয়েছে, যা অন্য নারীদের উৎসাহিত করবে বলে মনে করি।

‘মায়া’ চলচ্চিত্রের ‘যৌনদৃশ্যে’ সেন্সর বোর্ডের আপত্তি


দু’ফুটের পাত্রের সঙ্গে ছয় ফুট লম্বা পাত্রীর বিয়ে! এলাহি আয়োজন, নিমন্ত্রিত ১৩ দেশের বহু অতিথি

burhan


 


 

 


Saturday, November 16, 2019

নিজের সব বিলিয়ে দিয়ে মাকে নিয়ে এক কামরার ঘরে থাকেন নানা পটেকর!


nana অত্যন্ত মধ্যবিত্ত জীবনযাপন, বিলাসিতার একেবারেই ধার ধারেন না। এমনকি, জনপ্রিয় এই অভিনেতা যা উপার্জন করেন তার সিংহ ভাগটাই বিলিয়ে দেন গরিব-দুঃস্থদের মধ্যে। মাকে নিয়ে অত্যন্ত সাধারণ জীবন কাটান তিনি।
তিনি নানা পটেকর। বলিউডে অভিনয়ের জন্য তিনি ঠিক যতটা জনপ্রিয়, তার চেয়েও কয়েক গুণ বেশি লোকপ্রিয় তাঁর এই উদার মনোভাবের জন্য। তারকারা উপার্জন তো অনেক বেশি করেন, কিন্তু তাঁদের মধ্যে হাতে গোনা কয়েক জনই এই ঔদার্য দেখাতে পারেন। নানা তাঁদেরই অন্যতম।


 Ananda Bazar

সুরের মায়াজালে শেকড়ের সন্ধান ,ঢাকা ফোক ফেস্ট


সুরের মায়াজালে শেকড়ের সন্ধান
শুক্রবার ফোক ফেস্টের দ্বিতীয় দিনে মালির লোকসংগীতশিল্পী হাবিব কইটের পরিবেশন করেন


মানব সমাজে নিজেকে চেনার, শেকড়কে জানার আকুতি হাজার বছরের। বহুকাল ধরে বহু পথ পাড়ি দিয়ে যারা খুঁজেছেন জীবনের অর্থ, সৃষ্টিরহস্য আর শেকড়ের সুধা অন্বেষণে মেতে উঠেছেন বাউলিয়ানায়, তারাই গানে গানে সবার মাঝে রেখেছেন কিছু প্রশ্ন আর আত্মোপলব্ধির কিছু সত্য। বাউল, বৈষ্ণব, সাধকের সুরের পরশে মোড়া কথাগুলো আজও তাই আমাদের কাঁদায়-হাসায় এবং ভাবায়। শেকড় সন্ধানীরা তাই স্বীকার করেন, এ কেবল গান নয়, এ সুরের মায়াজালে বন্দি এক জীবনদর্শন। এর অপূর্ব সুরে আর কথায় আত্মা হয় পরিশুদ্ধ। এ কারণে লোকজ বা শেকড়ের গান সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছে একেকটি জাতির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক।
তাদের এই কথার সত্যমান করতে এবং মাটির গানের সুবাস ছড়িয়ে দিয়ে শেকড়কে জানার আহ্বানে পঞ্চমবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোক ফেস্ট ২০১৯' (ঢাকা আন্তর্জাতিক লোকসংগীত উৎসব ২০১৯)।

তিন দিনের এ উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও গতকাল শুক্রবার মাটির গানে মেতে উঠলেন হাজারো দর্শক-শ্রোতা। একদিকে স্বদেশের হৃদয়জাগানিয়া মেঠো টান, অন্যদিকে পাকিস্তান ও মালির লোকজ  সুরে মেলবন্ধন গড়ে উঠল উৎসবের মঞ্চে। এ দিন দেখা মিলল বাংলাদেশের কাজল দেওয়ান, কামরুজ্জামান রাব্বি, শফিকুল ইসলাম এবং পাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ এবং মালির লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি হাবিব কইটে ও তার ব্যান্ড বামাদার সদস্যদের।

গতকাল উৎসবের দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই মঞ্চে আসেন শফিকুল ইসলাম। বয়স কম হলেও এই কৈশোরেই লোকগানের পরিবেশনা দিয়ে শ্রোতার মনোযোগ কেড়েছে শফিকুল। ২০১৬ সালে সান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত 'বাউলিয়ানা'য় প্রথম রানারআপ হয়ে আলোচনায় আসে শফিকুল। এই খুদে শিল্পী বাউল ও বিচ্ছেদি গানের পাশাপাশি অন্য ঘরানার গানেও দারুণ পারদর্শী। মঞ্চে উঠেই শফিকুল গেয়ে শোনান শাহ আব্দুল করিমের 'মন মজাইলা ওরে বাউলা গান'। এরপর ধরেন বিরহের গান 'ও তুমি কই গেলা বন্ধুরে'। 'কি সুন্দর এক গানের পাখি' দিয়ে নিজের পরিবেশনা শেষ করেন এই খুদে বাউল।

শফিকুল মঞ্চ ছাড়তেই লোকসংগীতশিল্পী কামরুজ্জামান রাব্বি ওঠেন মঞ্চে। উঠেই খুলে বসেন নিজের গানের ঝুলি। একে একে তিনি গাইতে থাকেন- বাংলাদেশের ঢোল, তোমার সঙ্গে কিসের পিরিতি, আমি তো ভালা না। গ্রামের নওজোয়ান গান দিয়ে তার পরিবেশনা শেষ করেন তিনি।




পরে মঞ্চে ওঠেন কাজল দেওয়ান। ঢাকার কেরানীগঞ্জের এ গায়কের সংগীতে হাতেখড়ি শৈশবে। তার বাবা প্রখ্যাত বাউল-কবি আবদুর রাজ্জাক দেওয়ান। বাবার হাত ধরে নিজেকে বাউল গানের সুরে জড়িয়ে ফেলেছেন কাজল দেওয়ান। পালাগান ও লোকসংগীতকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দিতে এ পর্যন্ত তিন শতাধিক অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। মঞ্চে উঠেই তিনি শুরু করেন, দিন ফুরাইলেই ভাইঙ্গা যাইব এই রঙ্গের মেলা। এরপর একে একে গেয়ে শোনান- পিরিতের বাজার ভালো না, আমায় এত দুঃখ দিলি বন্ধু রে বন্ধু। গানের র পরই পুরো স্টেডিয়ামে নেমে আসে রাজ্যের নীরবতা। অন্ধকারে আলো ঝলকানি যেন জানান দেয় বিরহবাসী হয়েছেন উপস্থিত সবাই। এরপরই মঞ্চে আসেন আফ্রিকার মালির হাবিব কইটে অ্যান্ড বামাদা। মালির লোকসংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি বলা হয় এই হাবিব কইটেকে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে হাবিব কইটের প্রথম অ্যালবাম 'মুসো কো' প্রকাশিত হয়। প্রথম অ্যালবামের গানগুলো দিয়ে বিশ্বের অগনিত সংগীতপ্রেমীর মনোযোগ কেড়ে নেন তিনি। সেই শুরু, এরপর আর থামার অবকাশ পাননি হাবিব। দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে ভিন্নধর্মী গিটারবাদন এবং গায়কি দিয়ে শ্রোতাদের প্রত্যাশা পূরণ করে চলেছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ব্যান্ড বামাদাকে নিয়ে প্রায় ১৭০০ কনসার্ট করেছেন; গান গেয়েছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বড় মঞ্চে। এবার বাংলাদেশের দর্শকরাও শুনতে পেলেন হাবিব কইটের ঐন্দ্রজালিক সুর। আফ্রিকান লোকধারার গান নিয়ে টানা ১ ঘণ্টা মঞ্চ মাতিয়ে রাখেন তিনি। পরিবেশন করেন তাদের জনপ্রিয় সব গান।

কইটের পর সুরের স্বাদ দিতে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের ফকির শাহাবুদ্দিন। বাউল গানের এ জাদুকর মঞ্চে উঠেই বাউলসম্রাট লালন সাঁইয়ের গান- আল্লাহ বল মন রে পাখি দিয়ে শুরু করেন পরিবেশনা। এরপর একে একে গাইতে থাকেন একদিন মাটির ভেতরে হবে ঘর ও মন আমার, মাঝি পাল তুলে দে হেলা করিস না গানগুলো। আধ্যাতিকতার স্বাদমাখা এসব গানে কিছুক্ষণ ডুবে ছিলেন শ্রোতারা।

সবশেষে মঞ্চে আসেন দ্বিতীয় দিনের বহু প্রতীক্ষিত গায়িকা পাকিস্তানের হিনা নাসরুল্লাহ। তার আগমনী বার্তায় দর্শক প্রাণচঞ্চল হয়ে ওঠেন নতুন উদ্যমে। তার পরিবেশনায় আর্মি স্টেডিয়ামের দর্শকরা হারিয়ে যান অচেনা এক স্বপ্নলোকে। লোকজ বাদ্যযন্ত্রের সঙ্গে তার গায়কিতে মুগ্ধ হন সবাই। তার গানেই ইতি টানা হয় উৎসবের দ্বিতীয় দিনের।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে শুরু হওয়া লোকসংগীতের এ আয়োজনের সমাপনী দিন আজ। আয়োজকরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশসহ ছয়টি দেশ থেকে ২০০ জনের বেশি লোকশিল্পী ও কলাকুশলী এবারের আসরে অংশ নিয়েছেন। সান ফাউন্ডেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ উৎসব প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত চলে। শেষ দিনের আয়োজনে আজ শনিবার গান পরিবেশন করবে পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল 'জুনুন' ও রাশিয়ার 'সাত্তুমা'।
সমকাল।


আজ মা-বাবার কাছে ফিরবেন আরিয়ান।

ছেলেকে আর্থার রোড জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ। দেশের বড় আইনজীবীদের নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। কারণ, এর আগে নিম্ন আদালতে আরি...