Saturday, February 29, 2020

‘সবচেয়ে সেরা অভিনয়টা এখনো করতে পারিনি’

নাট্যজন মামুনুর রশীদ এ দেশের মঞ্চ নাটককে সমৃদ্ধ করেছেন। স্বাধীনতার পরপরই তিনি মঞ্চ নাটক শুরু করেন। প্রতিষ্ঠা করেন আরণ্যক নাট্যদল। তার দলের নাটক নিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও পৃথিবীর বহু দেশে গেছেন মামুনুর রশীদ। পাশাপাশি টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করে আসছেন দীর্ঘ দিন ধরে।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও পেয়েছেন একুশে পদক। বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন দুই বার। এখনো তিনি অভিনয়, নাটক পরিচালনা ও নাটক লেখা— তিনটিই করে যাচ্ছেন। আজ ২৯ ফেব্রুয়ারি গুণী এই শিল্পীর জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে ব্যক্তি ও অভিনয় জীবনের নানা বিষয় নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে মামুনুর রশীদের কথা হয়।
চার বছর পরপর আপনার জন্মদিন আসে, আপনার কাছে এই অনুভূতি কেমন?
এক ধরনের উত্তেজনা কাজ করে। প্রতি বছর জন্মদিন হলে হয়তো এত উত্তেজনা-আনন্দ কাজ করতো না। চার বছর পরপর জন্মদিন আসে বলেই হয়তো উত্তেজনাটা একটু বেশিই কাজ করে। অনেক দিন অপেক্ষা করি, কবে আসবে আমার জন্মদিন। আসলে সময়ের তো বিভাজন হয় না। কোথাও রাত, কোথাও দিন। নানান দেশে নানা রকম। তারপরও বিষয়টি দীর্ঘ অপেক্ষার, তাই প্রবল আনন্দেরও।
মামুনুর রশীদের জন্মদিন উদযাপনে শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজন করা হয়েছে দ্রোহ দাহ স্বপ্নের নাট্য আয়োজন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত। তার লেখা পাঁচটি নাটক মঞ্চায়ন হবে সেখানে। থাকবে সেমিনার ও নৃত্যানুষ্ঠান। ভারত থেকে আসছেন বিখ্যাত চলচ্চিত্র ও থিয়েটার সমালোচক শমীক বন্দ্যোপাধ্যায়।
অনেক বছর ধরে অভিনয় শিল্পের সঙ্গে জড়িত আপনি। এই সময়ে এসে চাওয়া কী?
আমার এখনো মনে হয়, সবচেয়ে ভালো নাটকটি নির্দেশনা দিতে পারিনি। সবচেয়ে ভালো নাটকটি লিখতে পারিনি। সবচেয়ে সেরা অভিনয়টা এখনো করতে পারিনি। সব শিল্পীরই একটা ড্রিম থাকে। আমারও আছে। সে রকম একটি কাজ করে যেতে চাই, যা কি-না মাইলস্টোন হয়ে থাকবে। অনেকেই আমাকে বলেন, সব কিছু করে ফেলেছি, সব কিছু পেয়ে গেছি। আমি বলি না। সব কিছু করতে পারিনি।
আজই মঞ্চে উঠবে আরণ্যকের নতুন নাটক ‘কহে ফেসবুক’। নাটকটি নিয়ে কী ভাবছেন?
এটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। আমার জন্মদিনে এটি মঞ্চে আসছে। আরণ্যকের ৬২তম প্রযোজনা এটি। আমারই লেখা। নির্দেশনাও আমার। তবে আমি অভিনয় করছি না।
আপনাকে সবসময় দেখা যায় সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নাটক লিখতে। আপনার নাটকে মাটির কথা, খুব সাধারণ মানুষদের কথা বেশি থাকে, এটা কেন?
আমি মনে করি, নাটক সব সময়ই সমসাময়িক। শেকসপিয়ার থেকে শুরু করে সব নাট্যকারই সমসাময়িক বিষয় নিয়ে নাটক লিখে গেছেন। মাটির কথা, সাধারণ মানুষদের কথা উঠে আসাটাই তো স্বাভাবিক ব্যাপার। মানবিক চেতনার জায়গা থেকে এসব নিয়ে লিখি। কোথায় আমার জন্ম, কোথায় বেড়ে ওঠা, এসব লিখে আনন্দ পাই। মাটির কথা না লিখলে কার কথা লিখব?
কোনো অপূর্ণতা আছে কি আপনার শিল্পী জীবনে?
অসংখ্য অপূর্ণতা আছে। আমাদের দিগন্তটা ছোট। জার্মানি, ইংল্যান্ডে থিয়েটারের দিগন্তটা অনেক বড়। আমাদেরটা যতটুকু আছে, সেটাকে আরও ছোট করা হয় এখানকার কিছু মানুষের জন্য। যারা কিনা মৌলবাদী। যারা আমাদের থিয়েটারকে, শিল্প-সাহিত্যকে ধ্বংস করতে চায়। তারা ধ্বংস করতে না চাইলে ছোট দিগন্ত নিয়েই আমরা আরও অনেক দূর যেতে পারতাম।
শিল্পী জীবনে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কোনটি?
মানুষের ভালোবাসা। এ দেশের মানুষতো বটেই, বাংলা ভাষাভাষীর মানুষ যেখানেই আছেন, আমাকে অসম্ভব ভালোবাসেন। রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছি। কিন্তু মানুষের ভালোবাসার মতো বড় পুরস্কার আমার জীবনে আর নেই।
আপনি অভিনেতা, নাট্যকার, নাট্যপরিচালক, শিল্পের সঙ্গে আপনার বসবাস, শেষ ইচ্ছা কী?
কাজ করতে করতে মরতে চাই। মানুষের কথা বলতে চাই। থিয়েটার দিয়েও মানুষের কথা বলা যায়। নাটক হচ্ছে শ্রেণি সংগ্রামের হাতিয়ার। নাটকের মধ্যে দিয়ে মানুষের কথা বলতে বলতে আমি পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাই।
এ দেশের মঞ্চ নাটক অনেক দূর এগিয়েছে, তারপরেও ঢাকা ও কলকাতার মঞ্চ নাটকের তুলনা করতে বললে কী বলবেন?
কোনো বাংলাকেই ছোট করতে চাই না। দুই বাংলার মঞ্চ নাটকই অনেক সমৃদ্ধ। আমাদের এখানে নাটক গড়ে উঠেছে, কিন্তু নাট্যসংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। ওদের ওখানে নাট্যসংস্কৃতি গড়ে উঠেছে।
নাট্যকার হিসেবে আপনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন, কেন?
এটা ১৯৮২ সালের কথা। সে সময় শিশু একাডেমিতে শিশুদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। এছাড়া টিভি নাটকে সেন্সর ছিল। এর প্রতিবাদে আমি বাংলা একাডেমির পুরস্কার প্রত্যাখ্যান করেছিলাম। এরপর আমিই প্রথম সেন্সরবিহীন নাটকের উৎসব শুরু করেছিলাম।

Daily Star

Thursday, February 27, 2020

সারাদেশে এখন সিনেমা হল মাত্র ৭০টি!

জাহিদ আকবর
দেশে সচল সিনেমা হলের সংখ্যা কমতে কমতে ৭০টিতে এসে দাঁড়িয়েছে। দু-তিন বছর আগেও সিনেমা হলের সংখ্যা ছিল ২৫০।
নব্বইয়ের দশকে যেদিকে সারাদেশে ১ হাজার ৪৩৫টির মতো সিনেমা হল সচল ছিল, সেখানে এখন আছে কেবল ৭০টি! এখন দেশের অনেক জেলা শহরে কোনো সচল সিনেমা হল-ই নেই। বরগুনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, নড়াইল, নাটোর, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, পঞ্চগড়, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, চুয়াডাঙ্গা, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ দেশের ২৫টি জেলায় বর্তমানে সচল কোনো সিনেমা হল নেই।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির উপদেষ্টা মিয়া আলাউদ্দিন দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রযোজক, পরিবেশক ও প্রদর্শক সমিতির কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সাল পর্যন্ত টাঙ্গাইলে ৪৭টি সিনেমা হল থাকলেও এখন সেখানে মাত্র ১০টি হল সচল রয়েছে। যশোরে ২১টি সিনেমা হল থাকলেও এখন মাত্র চারটি সিনেমা হল চালু রয়েছে। অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার ৩১টি সিনেমা হলের মধ্যে রয়েছে মাত্র পাঁচটি।
একই চিত্র রাজধানী ঢাকাতেও। গুলিস্তান, নাজ, মুন, মুকুল, সদরঘাটের রূপমহল, আরমানিটোলার শাবিস্থান, পোস্তগোলার ডায়না, কারওয়ান বাজার এলাকায় পূর্ণিমা ও কাকরাইলের রাজমণি ও রাজিয়া সিনেমা হলও বন্ধ হয়ে গেছে। 
সিনেমা হলগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে সিনেমা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভালো সিনেমা নেই বলে হল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কেউ আবার বলছেন, হল নেই বলেই সিনেমার ব্যবসা খারাপ। তাই ভালো সিনেমাও নির্মিত হচ্ছে না।
সবমিলিয়ে বাস্তব চিত্র হচ্ছে, ক্রমশই দেশের সিনেমা হলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা দেশের সিনেমার জন্য শঙ্কার বিষয়। যে ৭০টি সিনেমা হল এখনও সচল রয়েছে, সেগুলোও খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে।
প্রদর্শক সমিতির সভাপতি ও প্রযোজক ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনকে বলেন, “দু-একটা ছবি যে বছরে ব্যবসা করছে না, তা বলছিনা। কিন্তু, এতে কি সিনেমা হল টিকে থাকবে? বাংলাদেশের সিনেমা এখন লাইফ সাপোর্টে আছে। আর যদি দিনকে দিন হলের সংখ্যাও কমতে থাকে, তাহলে বিশাল সংকটে পড়তে হবে। এক সময় দেশে হলই থাকবে না।”
পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার দ্য ডেইলি স্টার অনলাইনকে বলেন, “সিনেমা চালিয়ে এখন হল মালিকরা লাভবান হতে পারছেন না। তাই হল ভেঙ্গে মার্কেট বানাচ্ছেন বা অন্য ব্যবসা করছেন। হল না থাকলে সিনেমা কীভাবে দেখবে মানুষ? তাই যেকোনোভাবেই হোক সিনেমা হল টিকিয়ে রাখতে হবে।”

Friday, February 21, 2020

শাকিবকে ঘিরে গুঞ্জন পজিটিভলি দেখি : বুবলী

শাকিবকে ঘিরে গুঞ্জন পজিটিভলি দেখি : বুবলী
কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না, উধাও হয়ে গেছেন, দেশে নাকি বিদেশে- গত কয়েকদিন এমনটাই শোনা যাচ্ছে হালের আলোচিত অভিনেত্রী বুবলীকে নিয়ে। এমনকি শাকিব খানকে ঘিরে ব্যক্তিগত জীবনের কিছু গুঞ্জন বা কানাঘুষাও হচ্ছে মিডিয়াপাড়ায়। অবশেষে আড়াল ভেঙে মুখ খুললেন বুবলী। মুঠোফোনে তার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন- শামছুল হক রাসেল

অবশেষে পাওয়া গেল, সত্যিই কি আপনি বুবলী? হা. হা.. হা...! ভালো বলেছেন। বাংলাদেশ প্রতিদিনে আমার অনেক সাক্ষাৎকার গেছে, তাই আপনারা আমাকে চিনতে ভুল করবেন না জানি। আর আপনার তো ভুল করার কথাই নয়।

সব মিলিয়ে কেমন আছেন?
আলহামদুলিল্লাহ। আপনাদের দোয়ায় ভালো আছি। ছিলাম, আছি এবং ভালো থাকব ইনশাল্লাহ।

মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বীর’ সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছেন কী?
এখন পর্যন্ত আমার মুক্তিপ্রাপ্ত সব ছবিই সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি আমি। তাই বীরও তার বাইরে নয়, মধুমিতায় গিয়ে দেখেছি। বীর ছবিটি আমার কাছে অন্যরকম একটা প্রিয় ছবি। কারণ এই ছবি নিয়ে অনেক কিছু ঘটেছে। তাছাড়া অনেক কষ্ট করে শুটিং করেছি, প্রচণ্ড শীত ছিল তখন। কুয়াশা মাথায় সারা রাত শুটিং করেছি। আর ছবিটির জন্য আমাকে একটু ওজন বাড়াতে হয়েছিল। কারণ চরিত্রটিই ছিল আমি খুব সাধারণ একটি মেয়ে, যাকে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শহরে নিয়ে আসা হয়। সৌভাগ্য হয়েছে এই ছবির মাধ্যমে কাজী হায়াৎ আঙ্কেলের মতো একজন গুণী নির্মাতার নির্দেশনায় কাজ করার, যা আমার চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

আপনাকে নিয়ে অনেক কিছু শোনা যাচ্ছে। কথায় আছে, যা রটে তার কিছু হলেও বটে। আপনার ক্ষেত্রে কতটুকু সত্য?
দেখুন, মিডিয়া মানেই নানা ঘটনার রটনা। আমি গত পাঁচ বছর ধরে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি। কখনো কেউ বলতে পারবে না কাউকে অসম্মান করেছি, শুটিং সেটে দেরি করে গেছি, কখনো নায়িকাগিরি দেখিয়ে কোথাও কোনো বাড়তি সুবিধা নিয়েছি। এ ছাড়া অন্য কোথাও কোনো কিছুতে আমাকে পাওয়া গেছে বা রিউমার আছে যা নিয়ে গসিপ করা যাবে। দেখুন, খুব ছোটবেলা থেকেই আমি অনেক সিনিয়রের সঙ্গে প্রাইম টাইম নিউজ পড়তাম একটি জনপ্রিয় বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে। যেখানে আমাকে ক্লাসে যেতে হতো নিউজের ব্যাগ পাশে রেখে, কারণ ক্লাস শেষ করেই অফিসে এসে নিউজ পড়তাম। অফিসে এসে নিউজের প্রস্তুতিও নিতাম আর পাশাপাশি পরীক্ষার পড়াও একটু দেখে নিতাম। এমনকি যেদিন প্রথম শাকিব খানের সঙ্গে মিটিং ছিল ছবি নিয়ে, সেদিনও আমি নিউজ শেষ করে মিটিংয়ে গিয়েছিলাম। আবার মিটিং অর্ধেক রেখেই তাদের সরি বলে আমাকে ফিরতে হয়েছিল। কারণ ক্লাসের সময় হয়ে গিয়েছিল। এভাবেই আমি কাজ আর পড়ালেখা ব্যালেন্স করে আসছি। তাই ডানে-বামে অন্যকিছু ভাবার সময় নেই আমার। আমি ভাবতেও চাই না। এই ব্যালেন্সের মাঝে একজন মানুষকে (শাকিব খান) নিয়েই কিছু কথা হয়, আসলে গুজব তো গুজবই, যা মানুষ নানাভাবে নিজের মতো বলে। কিন্তু ঘটনার পেছনেও অনেক ঘটনা থাকে আর সময় এমন একটা জিনিস যা কিনা অনেক কিছুই পরিষ্কার জানিয়ে দেয়। তাই গুজবে কান না দেওয়াই ভালো।

আপনি এখন দেশে না বিদেশে?
দেশেই আছি। কোনো শুটিংয়ের কাজ ছাড়া আমি বাসায় নিজের মতো থাকতে পছন্দ করি, এটা অনেক আগেই বলেছি অনেক জায়গায়। শুটিং থাকলে শুটিংয়ের সেটে থাকি, এ ছাড়া আমাকে হয়তো কেউ ওভাবে কোথাও পায় না। যে কোনো ছবির কাজ শেষ করে নিজের মতো পরবর্তী কাজের জন্য নিজেকে সময় দিই, প্রস্তুত করি। এই গ্যাপ সময়টায় অনেকে যোগাযোগ করেন, না পেলে তখন বলেন- আমি উধাও। সম্প্রতি শোনা যাচ্ছে আমি নাকি উধাও। কিছুদিন আগেও এরকম উধাও বলেছিলেন অনেকে। আমি বলেছিলাম, নতুন ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছি। এরপর কিন্তু বীর এবং ক্যাসিনো নামের দুটি নতুন ছবির শুটিং শেষ করেছি। একইভাবে পাসওয়ার্ড এবং মনের মতো মানুষ পাইলাম না ছবির কাজ করেছি।

তাহলে হঠাৎ আড়ালে গেলেন কেন?
হঠাৎ, ঠিক তা নয়। আমি প্রায়ই টানা কাজ করে কিছুদিন বিরতি নিই। আসলে পেশাগত জীবনের পাশাপাশি আমাদের সবারই তো ব্যক্তিজীবন আছে, যেখানে একটু নিজের মতো থাকতে ইচ্ছা করে। কাজের চাপ একটু কম থাকলে পরিবারসহ দেশের বাইরে ঘুরতে যাই কয়েকদিনের জন্য, নতুন নতুন খাবার, নতুন জায়গা, নতুন কালচার এক্সপ্লোর করতে আমার ভালো লাগে। গত বছরও সবাই মিলে মালয়েশিয়া, লন্ডন গিয়েছিলাম। এবারও ওরকম কিছু পরিকল্পনা আছে।

শাকিবকে জড়িয়ে কিছু ব্যক্তিগত গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, কী বলবেন?
দেখুন চলচ্চিত্র জুটি নিয়ে গুজব বা গুঞ্জন নতুন কিছু নয়। আর এটাই একটা জুটির সার্থকতা। প্রযুক্তির এই যুগে ইন্টারনেট, ফেসবুক, ইউটিউবসহ কত কত চ্যানেল নিয়ে মানুষ ব্যস্ত, তার ওপর তাদের নিজেদের জীবন তো আছেই। তাও যে শাকিব খান আর বুবলী নিয়ে মানুষ এত সময় ব্যয় করে এটা আমাদের জন্য বাড়তি পাওনা। আমরা (আমি ও শাকিব খান) কিন্তু কেউই কোথাও কোনো স্টেটমেন্ট দিই না বা কোনো অনুষ্ঠানে কেউ কাউকে নিয়ে কথা বলে আলোচনায় থাকতে চাই না। এমনকি কোনো ভিডিও ধারণ করেও দুজন ভাইরাল হতে চেষ্টা করছি না। যে যার মতো পেশাদারি মনোভাব নিয়ে কাজ করছি। মানুষ হয়তো কোনো একটা ক্যামিস্ট্রি আমাদের মধ্যে খুঁজে পান, তাই হয়তো এমন করেন। আমি এ গুঞ্জনটাকে পজিটিভভাবেই দেখি।

তাহলে এসব কেন শোনা যাচ্ছে?
গুটিকয়েক তো আছেনই, যারা সারাক্ষণ এসবের মধ্যেই থাকেন। তারা মানুষের পেশাগত, ব্যক্তিগত সব বিষয় নিয়ে এত ব্যস্ত যে, এরা আসলে ঘুমায় কিনা তাও আমি কনফিউজড। এদের প্রতি থাকবে আমার শুভ কামনা।

আড়াল ভেঙে আবার ফিরবেন কবে?
নতুন ছবির প্রস্তুতি নিচ্ছি খুব ভালোভাবে। বেশ কিছু ভালো গল্প পেয়েছি, যেখানে নিজেকে ভিন্ন ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ আছে। সে জন্যই একটু সময় নিয়ে প্রস্তুত করছি নিজেকে। কিছুদিন পর দর্শকরা আমাকে একদম নতুনভাবেই দেখতে পাবেন।

দর্শক ও ভক্তদের উদ্দেশে যা বলতে চান...
দর্শক, ভক্ত এবং চলচ্চিত্র আমাকে বুবলী বানিয়েছে। আমার নাম নিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে দুটি গান আছে, অনেক মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি। তারা আমাকে নিয়ে ভাবেন এর থেকে বড় পাওয়া আর কি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতেও চলচ্চিত্র নিয়ে থাকতে চাই। কিছু ভালো ছবি আমার দর্শকদের উপহার দিতে চাই। আর এভাবেই সবসময় পাশে থাকতে চাই তাদের।

Thursday, February 13, 2020

ফুলের বাজারে ‘আগুন’

ফুলের বাজারে ‘আগুন’
ফাইল ছবি
আগামীকাল পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের এ আগমনী দিনেই এবার পালিত হবে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ অবস্থায় লাল ও হলুদসহ নানা রঙের ফুলে সেজেছে রাজধানীর ফুলের দোকান। ফুল কিনতে এরইমধ্যে ভিড়ও শুরু হয়ে গেছে। ক্রেতার চাপ ও চাহিদা বেশি হওয়ায় ফুলের দামও অনেক বেড়ে গেছে।
রাজধানীর শাহবাগের ফুলের আড়ত ও দোকানে খুচরা বিক্রেতারা ফুলের মালা তৈরির কাজে ব্যস্ত। তারা বিভিন্ন ধরনের ফুল বিক্রি করছেন। অনেকে আজকেই বাসন্তী রঙের শাড়ি পরে ফুলের দোকানে আসছেন। ফুল কিনছেন। এ চিত্র বৃহস্পতিবারের।
আসিফ নামের এক ক্রেতা বলেন, ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে ফুল কিনতে এসেছিলাম। কিন্তু আগের চেয়ে দুই থেকে তিনগুণ বেমি দাম চাচ্ছেন দোকানদাররা। তাই ভাবতে হচ্ছে, ফুল কীভাবে কিনবো। কারণ, বাজেটে মিলছে না। তবু কিছু করার নেই। অল্প হলেও ফুল নিতে হবে।
যাত্রাবাড়ীর এক ফুলের দোকানের মালিক জানালেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি শাহবাগের আড়তে ফুল কিনতে এসেছেন। আগামীকাল বসন্তবরণ ও ভ্যালেন্টাইনস ডে। এদিন অনেক ফুলের প্রয়োজন হবে। তবে স্বাভাবিকের চেয়ে আজই ফুলের দাম অনেক বেশি। কোনো কোনো সময় ১শ পিস লাল গোলাপ পাইকারিতে ৩শ থেকে ৪শ টাকায় পাওয়া যায়। আজ ১শ পিস গোলাপ মানভেদে ৮শ, ১ হাজার এবং ১২শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আগামীকাল পর্যন্ত এমন চড়া দাম থাকবে। তারপর আবার দাম স্বাভাবিক হয়ে যাবে। টুকরিতে করে ফুলের মালা বানিয়ে বিক্রি করছেন ফুলবানু। তিনি বলেন, ফুল বিক্রি ভালোই হচ্ছে। যার কাছ থেকে যেমন পাচ্ছি, ফুল বিক্রি করছি। শাহবাগের ফুলের এক আড়তদার বলেন, আজ ফুল বিক্রির অনেক চাপ। গতকাল রাত থেকে চাপ শুরু হয়েছে। কাল সারারাত বিক্রি হয়েছে।
বিডি প্রতিদিন/আল আমীন

যৌথ কমিশনের বৈঠকে ৩১ বিষয়ে সমঝোতা সৌদির কাছ থেকে বড় বিনিয়োগের প্রত্যাশা সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ে আলোচনা

সৌদি আরবের তেল কোম্পানি ‘আরামকো’
সৌদি আরবের তেল কোম্পানি ‘আরামকো’
সৌদি আরবের তেল কোম্পানি ‘আরামকো’র কাছ থেকে বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে বাংলাদেশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে বৃহস্পতিবার যৌথ কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
শিগগিরই এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। বৈঠকে অনির্ধারিত আলোচনায় উঠে আসে সৌদি আরবে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের বিষয়টিও। সেই সঙ্গে দু’দেশের স্বার্থ রক্ষায় ৩১টি বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে দু’দেশ। দুদিনের যৌথ কমিশনের বৈঠক শেষে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সমঝোতায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলনেতা অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মনোয়ার আহমেদ এবং সৌদি প্রতিনিধি দলের নেতা দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মাহির আবদুল রহমান গাসিম উপস্থিত ছিলেন।
পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চুক্তির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। সূত্র জানায়, ইআরডি’র আয়োজনে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও এজেন্সিগুলোর উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা বিভিন্ন অধিবেশনে অংশ নেন। দু’পক্ষই বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করার প্রতিশ্র“তি ব্যক্ত করেছে।
‘আরামকো’র বিনিয়োগের বিষয়ে ইআরডির দায়িত্বশীল একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরামকোর বিনিয়োগ নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ জন্য ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। তাই বিনিয়োগের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
তবে ইআরডির সচিব মনোয়ার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, যেহেতু জি-টু-জি বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, তাই সরাসরি আমরা টাকার অঙ্ক বলতে পারি না। এটি বেসরকারি পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আরামকো’র মতো বড় কোম্পানি বিনিয়োগ করলে ৫০ বিলিয়ন ডলারের মতোই তো আশা করা যায়।
সংবাদ সম্মেলনে মনোয়ার আহমেদ বলেন, বুধবার সৌদির ‘এ্যাকোয়া পাওয়ার’র সঙ্গে ১৮০ মেগাওয়াটের সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চুক্তি হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই সৌদি আরবের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসবেন এবং এমওইউ স্বাক্ষরিত হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সৌদি সফরের পর দু’দেশের সম্পর্ক অন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে কথা হয়েছে। এর সঙ্গে অনেক মন্ত্রণালয় ও সংস্থা যুক্ত। তাই পরবর্তীতে আলাপ-আলোচনা করা হবে।
সৌদি আরব ৪২ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরানোর বিষয়টি আলোচনায় তুলেছিল কিনা জানতে চাইলে দেশটির উপমন্ত্রী মাহির আবদুর রহমান গাসিম বলেন, বিষয়টি স্পর্শকাতর। আমরা মনে করি, বাংলাদেশ থেকে যারা সেখানে গিয়ে কাজ করছেন, তারা অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। আমরা নিরাপত্তার প্রেক্ষাপটে অপরাধ প্রবণতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছি।
দু’দেশ যেসব বিষয়ে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে তার মধ্যে আছে- বিদেশ, অভ্যন্তরীণ ও বিচার বিভাগীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই পাসপোর্ট, ওয়ার্কিং ভিসা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ভ্রমণের নথি জারি করার বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।
উভয়পক্ষ ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও মতবিনিময় কর্মসূচির জন্য বাংলাদেশ ফরেন সার্ভিস একাডেমি (বিএফএসএ) এবং প্রিন্স সৌদ আল ফয়সাল ইন্সটিটিউশন ফর ডিপ্লোমেটিক স্টাডিজের (পিএসএফআইডিএস) মধ্যে সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া দুই দেশ বিচারিক ক্ষেত্রে এবং মাদক নিয়ন্ত্রণ ও জালিয়াতির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছে। শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে নতুন তথ্য হালনাগাদেও সম্মত হয়েছে দু’পক্ষ।
বৈঠকে বাংলাদেশি পক্ষ থেকে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের চেক প্রদানসংক্রান্ত সমস্যাসহ তিনটি ইস্যু সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব হস্তান্তর করা হয়।
সৌদিআরবের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ঋণ এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশিদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সৌদি প্রতিনিধি দলকে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ এবং সম্ভাব্য ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোর বিশদ তথ্য সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। পারস্পরিক বাণিজ্যিক পণ্যের বৈচিত্র্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।
সৌদি রফতানি কর্মসূচির (এসইপি) উপকারভোগীদের অর্থায়নের সুবিধার জন্য পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। সৌদি চেম্বারের কাউন্সিলের অধীনে সৌদি বিনিয়োগকারী বিভিন্ন সংস্থার (এ্যাকোয়া পাওয়ার, আরামকো, আল-বাওয়ানি, আল জোমিয়া, ইঞ্জিনিয়ারিং ডাইমেনশন, রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, মধু ও স্বাস্থ্য) বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে
আলোচনা হয়। সৌদি পক্ষ দু’দেশের পর্যটন বিশেষজ্ঞ, পেশাদার ট্যুর অপারেটর ও ভ্রমণ লেখকদের বিনিময়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। বাংলাদেশের অনুরোধে সৌদির জেনারেল অথরিটি অব সিভিল এভিয়েশন (জিএসিএ) দুই দেশের পতাকাবাহী বাহককে (বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স) সবদিক থেকে সমান বিবেচনা করতে সম্মত হয়েছে।
উভয়পক্ষ বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশের পক্ষে সৌদি আরবকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং বিভিন্ন শাখায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আরও বেশি বৃত্তি দেয়ার অনুরোধ করা হয়।

Jugantor

বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিঃশ্বাসে

বসন্ত আজ উচ্ছ্বাসে নিঃশ্বাসে
শীতের জীর্ণতা সরিয়ে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। আজ তাকে রাঙিয়ে দেয়ার দিন, রাঙিয়ে নেয়ার দিন।
কবি শামসুর রাহমান তার বসন্তের মায়ায় লিখেছেন, ‘গাছের শাখায় ফুল হাওয়ার সংস্রবে/যখন নীরবে দিব্যি সানন্দে দুলতে থাকে, পথচারী/ অথবা জানালা-ধরে-থাকা যুবতীর চোখ পড়ে/ কে জানে কী ছবি সব দোলে কিছুক্ষণ!/ বসন্তের মায়া রয়ে যায় বাস্তবিক নানাভাবে।’
আরেক কবি নির্মলেন্দু গুণ লিখেছেন- ‘হয়তো ফুটেনি ফুল রবীন্দ্র-সঙ্গীতে যতো আছে,/ হয়তো গাহেনি পাখি অন্তর উদাস করা সুরে বনের কুসুমগুলি ঘিরে।/আকাশে মেলিয়া আঁখি তবুও ফুটেছে জবা,/ দুরন্ত শিমুল গাছে গাছে,/ তার তলে ভালোবেসে বসে আছে বসন্তপথিক।’
এই নগরেও কোকিলের কুহুতান শোনা যাচ্ছিল কয়েক দিন আগ থেকেই। শুকনো পাতা ঝরে জন্ম নিয়েছে নতুন কচি পাতার। আজ সেই পত্রপল্লবে, ঘাসে ঘাসে, নদীর কিনারে, কুঞ্জ-বীথিকা আর পাহাড়ে অরণ্যে বসন্ত এসেছে নবযৌবনের ডাক দিয়ে। ছড়িয়ে দিয়েছে রঙের খেলা। সোনালি রোদের ছোঁয়ায় পলাশগুলো আজ জেগে উঠবে।
মৌমাছিদের গুঞ্জরণ, মাতাল হাওয়া ছুঁয়ে যাবে তনুমন। বাসন্তী রঙের গাঁদাফুলের রঙেই আজ সাজবে তরুণ-তরুণীরা। তরুণীরা পরবে বাসন্তী রঙের শাড়ি। খোঁপায় গুঁজবে ফুল, আর হাতে পরবে কাচের চুড়ি। তরুণরা বাসন্তী রঙের পাঞ্জাবি বা ফতুয়া পরে নামবে বাংলার পথে-ঘাটে। শুধু শহরেই নয়, বাংলার গ্রামীণ জনপদেও আজ ঝিরি ঝিরি বাতাসে ধরা দেবে বসন্ত।
এ বসন্ত শুধু শুধু উচ্ছ্বাসের রং ছড়ায় না, আমাদের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে শহীদদের রক্তরঙিন স্মৃতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ১৯৫২ সালের ৮ ফাগুন বা একুশের পলাশরাঙা দিনের সঙ্গে তারুণ্যের সাহসী উচ্ছ্বাস আর বাঁধভাঙা আবেগের জোয়ারও যেন মিলেমিশে একাকার হয়ে আছে।
বাঙালির জীবনের সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বসন্ত। বসন্তের বন্দনা আছে কবিতা, গান, নৃত্য আর চিত্রকলায়। বসন্তের প্রথম দিনকে বাঙালি পালন করে ‘পহেলা ফাল্গুন-বসন্ত উৎসব’ হিসেবে। এ উৎসব এখন সব বাঙালির উৎসব।
এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে। মোগল সম্রাট আকবর প্রথম বাংলা নববর্ষ গণনা শুরু করেন ১৫৮৫ সালে। নতুন বছরকে কেন্দ্র করে ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেন তিনি।
এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বসন্ত উৎসব। তখন অবশ্য ঋতুর নাম ও উৎসবের ধরনটা এখনকার মতো ছিল না। তাই বসন্ত উৎসব শুধু একটা উৎসব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলার গৌরবময় ঐতিহ্য।
আজ তরুণ-তরুণীরা নামবে পথে-প্রান্তরে। আর এ রাজধানী ঢাকার বুকে বাসন্তী সাজে তারা ঘুরে বেড়াবে শাহবাগের প্রজন্ম চত্বর, চারুকলা আর টিএসসিতে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা পরিণত হবে মানুষের বাসন্তী রঙের প্রাঙ্গণে। রমনা পার্ক, জাতীয় সংসদ, চন্দ্রিমা উদ্যান, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বলধা গার্ডেন, চারুকলার পেছনের সবুজ প্রাঙ্গণে ঘুরে বেড়াবে রাজধানীবাসী।
এবারও রাজধানীতে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করেছে জাতীয় বসন্ত উদযাপন পরিষদ। সকাল থেকে রাত অবধি চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় থাকবে যন্ত্রসঙ্গীত, বসন্ত কথন পর্ব, প্রীতি বন্ধনী, আবির বিনিময়, একক আবৃত্তি, দলীয় আবৃত্তি, একক সঙ্গীত, দলীয় সঙ্গীত, দলীয় নৃত্য। দেশের অগ্রগণ্য দল ও বরেণ্য শিল্পীরা অনুষ্ঠানমালায় অংশগ্রহণ করবেন।

Jugantor

Friday, February 7, 2020

মিশনভিত্তিক ছবি নির্মাণে ঝোঁক


মিশনভিত্তিক ছবি নির্মাণে ঝোঁক




মিশন এক্সট্রিম ছবিতে সাদিয়া নাবিলা ও আরিফিন শুভ।  ছবি: সংগৃহীতমিশন এক্সট্রিম ছবিতে সাদিয়া নাবিলা ও আরিফিন শুভ। ছবি: সংগৃহীতসাম্প্রতিক বছরগুলোতে রোমান্টিক অ্যাকশন-ঘরানার ছবি তৈরির চল দেখা গেছে ঢালিউডে। কিন্তু ২০১৭ সালে মিশনভিত্তিক ছবি ঢাকা অ্যাটাক সফল হওয়ার পর এ ধরনের চলচ্চিত্রের দিকে আগ্রহ দেখা গেছে নির্মাতাদের। ঢাকা অ্যাটাক-এর পথ ধরে তৈরি হচ্ছে মিশন এক্সট্রিম, মিশন এক্সট্রিম টু, শান, অপারেশন সুন্দরবন, গিরিগিটি ছবিগুলো।
এরই মধ্যে পুলিশ বিভাগের অভিযানকে কেন্দ্র করে ফয়সাল আহমেদ ও সানি সানোয়ার পরিচালিত মিশন এক্সট্রিম ও মিশন এক্সট্রিম টু ছবি দুটির শুটিং শেষ হয়েছে। আগামী দুই ঈদ—ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় মুক্তি পাবে ছবি দুটি। এম এ রাহিম পরিচালিত শান ছবির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। এই ছবিও পুলিশ বিভাগের অভিযানকে কেন্দ্র করে। র‌্যাবের অভিযানভিত্তিক ছবি দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত অপারেশন সুন্দরবন ছবির প্রথম ধাপের শুটিং শেষ হয়েছে। পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অভিযানভিত্তিক ছবি সৌরভ কুণ্ডু পরিচালিত গিরিগিটির শুটিং চলছে পুরোদমে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য, ঢাকার চলচ্চিত্রে ৭০ দশক থেকে একটা প্রথা চলে আসছে। যখন কোনো ধরনের ছবি জনপ্রিয় হয়, সে ধরনের ছবি তৈরির দিকে ঝুঁকে যায় ইন্ডাস্ট্রি। সেই ধারা কিছুদিন চলে। তাতে কিছু ছবি যেমন সফল হয়েছে, আবার কিছু ছবি ব্যর্থও হয়েছে।
প্রযোজক ও হল প্রদর্শক সমিতির সহসভাপতি মিয়া আলাউদ্দিন বলেন, ঢাকা অ্যাটাক সফল হওয়ার কারণে মিশনভিত্তিক ছবিতে আগ্রহ বেড়েছে। তবে ছবিগুলোর একটি থেকে আরেকটিতে যদি নতুনত্বের ছাপ থাকে, তাহলে কিছুদিন এ ধরনের ছবি চলবে। তা নাহলেও সেই বেদের মেয়ে জোস্না ছবির মতো হবে। কারণ, বেদের মেয়ে জোস্না জনপ্রিয় হওয়ার পর ফোক-ঘরানার আরও ছবি তৈরি করা হয়েছিল, সব কিন্তু চলেনি।
ঢাকা অ্যাটাক ও অপারেশন সুন্দরবন ছবির নির্মাতা দীপঙ্কর দীপন বলেন, ‘এ ধারাটি নতুন। ঢাকা অ্যাটাক সফল হওয়ার পর থেকে এই দিকে ঝুঁকছেন নির্মাতারা। তবে একটি ছবি থেকে আরেকটি ছবির গল্প, নির্মাণের ধরন ও বৈশিষ্ট্য আলাদা হতে হবে। তবে এই ধারা দিয়েই ইন্ডাস্ট্রি বাঁচবে না। নানা ধরনের ছবি বানাতে হবে।
মিশন এক্সট্রিম ছবির দুই পরিচালকের একজন ও প্রযোজক সানি সানোয়ারের মতে, পুলিশি অ্যাকশন থ্রিলার-ঘরানার ছবির বিশ্বব্যাপী চাহিদা থাকলেও বাংলাদেশে ঢাকা অ্যাটাক ছবিটি মুক্তির আগে, তা বোঝা যায়নি। তিনি বলেন, ঢাকা অ্যাটাক ছবি মুক্তির পর বোঝা গেল, এ ধরনের ছবির বড় মার্কেট আছে বাংলাদেশেও। তবে এই পরিচালকের কথা, একই ধারার পরবর্তী ছবিগুলোতে একই আয়োজন, একই উপাদান থাকলে ছবি চলবে না। অবশ্যই নতুন কিছু থাকতে হবে।
এ ব্যাপারে নির্মাতা মতিন রহমান মনে করেন, মিশনভিত্তিক চলচ্চিত্রের এই নতুন ঘরানার ছবি যে কেউ চাইলেই বানাতে পারবেন না। এখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতা লাগে। যাঁরা করছেন, তাঁরা সেই সহযোগিতা নিয়ে করছেন। বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি। মতিন রহমান বলেন, এখন সিনেমাকে কোনোভাবেই সাজানো যাচ্ছে না। দর্শকের প্রত্যশা পূরণ করা যাচ্ছে না। এই মুহূর্তে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিয়ে যদি ভালো কাজ করা হয়, হোক। এটি সিনেমার জন্য ভালো। তবে অবশ্যই যেন কাজগুলো আলাদা হয়, সিনেমায় গল্প বলাটা যেন ঠিকঠাক থাকে।

 প্রথম আলো।

বঙ্গবন্ধুর বায়োপিক সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে তৌকীর, খন্দকার মোশতাক হচ্ছেন বাবু





জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বায়োপিক নির্মাণ করছেন বলিউড পরিচালক শ্যাম বেনেগাল- এটা বেশ পুরনো খবর। নতুন খবর হলো, বায়োপিকে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে তৌকীর আহমেদ ও খন্দকার মোশতাকের চরিত্রে ফজলুর রহমান বাবু অভিনয় করবেন। দুজনই খবরটির সত্যতা স্বীকার করেছেন।
ফজলুর রহমান বাবু বলেন, ‘বিলম্বে হলেও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বড় পরিসরে চলচ্চিত্র নির্মাণ হচ্ছে- এটা আমাদের জন্য সবচেয়ে খুশির খবর। বিখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করছেন, এটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এটা ঐতিহাসিক একটি কাজ হতে যাচ্ছে, কোনো সন্দেহ নেই। আমার ভালো লাগছে, আমিও সেই ইতিহাসের অংশ হতে যাচ্ছি।’
তৌকীর আহমেদ বলেন, ‘এমন একটি কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারছি- এটাই বড় আনন্দের বিষয়। বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে নির্মিতব্য চলচ্চিত্রে তারই রাজনৈতিক গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর চরিত্রে অভিনয় করতে পারা অনেক সৌভাগ্যের।’
বঙ্গবন্ধুর বায়োপিকের শিল্পী বাছাই, শুটিং লোকেশন, শিডিউল চ‚ড়ান্ত, কস্টিউম তৈরিসহ আনুষ্ঠানিক নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গত ৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় এসেছেন বলিউড পরিচালক শ্যাম বেনেগাল। গত সপ্তাহে জানা যায়, এ বায়োপিকে বঙ্গবন্ধুর মা সায়েরা খাতুনের চরিত্রে কাজ করার বিষয়ে চ‚ড়ান্ত হয়েছেন দেশের অন্যতম জ্যেষ্ঠ অভিনেত্রী দিলারা জামান।
এদিকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর চরিত্রসহ চলচ্চিত্রের অধিকাংশ চরিত্রের জন্য বাংলাদেশ থেকে আরও শিল্পী চ‚ড়ান্ত করা হচ্ছে। কিছু চরিত্রে বলিউড ও কলকাতার শিল্পীরাও থাকবেন। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হবে বাংলা ভাষায়। তবে পর্দায় হিন্দি সাব-টাইটেল থাকবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ প্রযোজনার এই চলচ্চিত্রটির জন্য বাজেট নির্ধারিত হয়েছে ৩৫ কোটি টাকা। এই বাজেটের ৬০ ভাগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ও ৪০ ভাগ ভারতের।

৪৪ দেশের পাঁচ শতাধিক শিল্পী নিয়ে ঢাকায় চলছে আর্ট সামিট

৪৪ দেশের পাঁচ শতাধিক শিল্পী নিয়ে ঢাকায় চলছে আর্ট সামিট
দক্ষিণ এশীয় শিল্পকর্ম প্রদর্শনী বিষয়ক ও চিত্রকলার সবচেয়ে বড় আয়োজন বলা হয় ‘ঢাকা আর্ট সামিট’কে। যেখানে অংশ নেন দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের পাশাপাশি উদীয়মান ও প্রতিশ্রুতিশীল শিল্পীরা। এক ছাদের নিচে বিশ্বের নানা প্রান্তের নানা মেজাজ ও শিল্পের নানামাত্রার কাজ দেখার বিরল সুযোগ করে দিতে ২০১২ সাল থেকে আন্তর্জাতিক এই সামিটের আয়োজন করে আসছে সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন।
২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত চারবার সফলভাবে ঢাকা আর্ট সামিট আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে, এবার বসছে ৫ম সংস্করণ। শুক্রবার সকাল ১০টায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার মিলনায়তনে ৯ দিনের ঢাকা আর্ট সামিট (ডিএএস) এর উদ্বোধন করেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ঢাকা আর্ট সামিটের সাংগঠনিক কমিটির চেয়ারম্যান ফারুক সোবহান এবং সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাদিয়া সামদানী।
মঙ্গলবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে সামিটের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের কো-ফাউন্ডার রাজীব সামদানী ও কো-ফাউন্ডার নাদিয়া সামদানী। এ সময় শিল্পকলা একাডেমির সচিব বদরুল আলম ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন। প্রদর্শনীর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন সামিটের অন্যতম কিউরেটর চিত্রশিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামী।
ঢাকা আর্ট সামিট ৫ম সংস্করণের প্রধান ভেন্যু এক লাখ ২০ হাজার বর্গফুট আয়তনের শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা ভবন। সামিটের অংশ হিসেবে জাতীয় চিত্রশালা ভবন সংলগ্নে স্থাপন করা হয়েছে স্কাল্পচার গার্ডেন।
উদ্বোধনী দিন ৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) প্রথম পারফর্ম্যান্স অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশালার ৬ নং গ্যালারিতে। ওইদিন সকাল ১০টায় সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড পারফর্ম্যান্সে অংশ নেন বাংলাদেশী শিল্পী আরিফুল কবির। উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা ৭টায় একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় ‘টুগেটার (ঢাকা সংস্করণ)’ শিরোনামে পারফর্ম্যান্সে অংশ নেন করাকৃত অরুনাদ্ধচল এবং অ্যালেক্স ভোজিও।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে সাজানো হয়েছে একটি বিশেষ প্রদর্শনী। একাডেমির জাতীয় চিত্রশালার প্রথম তলায় ‘লাইটিং দি ফায়ার অব ফ্রিডম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান’ শিরোনামে এই প্রদর্শনীর সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে রয়েছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (CRI) এবং সহায়তা প্রদান করছে । তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ও বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। যেখানে থাকবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক আলোকচিত্রের বিশাল সংগ্রহ।
সামিটে অংশ নেবেন বাংলাদেশ ছাড়াও ৪৪টি দেশের ৫০০ এর অধিক চিত্রশিল্পী-ভাস্কর, কিউরেটর, শিল্প-সমালোচক, আর্ট প্রফেশনাল, শিল্প সংগ্রাহক, স্থপতি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।
সামিটে অংশ নেয়া শিল্পী, সমালোচক ও আলোচকদের মধ্যে রয়েছেন- দিলারা বেগম জলি, রোকেয়া সুলতানা, সেলিমা কাদের চৌধুরী, লুইস হ্যান্ডারসন, বিশ্বজিৎ গোস্বামী, আরিফুল কবির, ইয়াসমিন জাহান নূপুর, হেক্টর জামোরাহ, সালেহ হাসান, রাফেল হেফটি, টনি কোকস, রশিদ চৌধুরী, শেনাই জাভেরি, থেরেসে চৌধুরী খান, মরগান কোয়ানট্যান্সে, আয়ো আকিনবেদ, রেহানা জামান, এসি এশুন, ড. অর্নব বিশ্বাস, সাজেদুল হক, অ্যানা পাই, আনিয়কায় ইগনে, ফায়হাম ইবনে শরীফ, আলফ্রেড সান্টানা, শীন অ্যান্ডারসন, ফারহান করিম, সাইম সুন, নূরুর রহমান খান, জয়দেব রওজা, অঞ্জলিকা সাগর, রানিয়া স্টেফেন, কৌদ ইশুন, মুস্তাফা জামান, স্নেহা রাগাভান, শায়লা শারমিন, মাহমুদুল হাসান দুলাল, ইফতিখার দাদি, সামিনা ইকবাল, মিং টিয়ামপো, রাফায়েল গ্রিসে, বোবা টোরে, লুটা-তা কাবা ইন্দ্রি, শিমুরেনজা, সালমান নাওয়াতি, কাদ্দু ইয়ার‌্যাক্স, হ্যাডিল অ্যাশলি, মোহাম্মদ হার্ব, এলিজাবেথ প্রভিনীল, জন টাইন, চৌং-ডাল বো, লোট্টে হিয়েক, এলিজাবেথ জর্জিস, সংযুক্ত স্যান্ডারসনসহ আরও অনেকে।
ঢাকা আর্ট সামিট একটি অ-লাভজনক পদক্ষেপ- যেখানে দক্ষিণ এশিয়ার বিখ্যাত শিল্পী ও বহির্বিশ্বের প্রতিষ্ঠিত গ্যালারিসমূহকে আমন্ত্রণের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসে ৫ম বারের মতো একই ছাদের নিচে তাদের শিল্পকলা প্রদর্শনীর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ও শিল্পরসিকদের তা উপভোগ করার আরও একবার দুর্লভ সুযোগ এনে দিচ্ছে।
সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়ে প্রথম ঢাকা আর্ট সামিট আয়োজন করে ২০১২ সালে। যেখানে ২৪০ দেশি-বিদেশি শিল্পীর শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়েছিল যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের অনেক শিল্পী আন্তর্জাতিক জাদুঘরগুলোতে নজিরবিহীন প্রবেশাধিকার পান। ৩ দিনের প্রথম ঢাকা আর্ট সামিটে প্রায় ২০ হাজার দর্শনার্থীর পদচারণা মুখর ছিল, যা বাংলাদেশ তথা দক্ষিণ এশিয়ায় শিল্পকলা অঙ্গনে নতুন ইতিহাস রচনা করে। দুই বছর পর পর এই সামিটের আয়োজন করা হয়। সর্বশেষ আয়োজন করা হয়েছিল ২০১৮ সালে একই ভেন্যুতে। ৯ দিনের (২ ফেব্রুয়ারি-১০ ফেব্রুয়ারি) ওই আর্ট সামিটে দর্শক এসেছিলেন গড়ে ৩৫ হাজার দর্শক অর্থাৎ ৩ লাখ ১৭ হাজার।
এবারও সামিট আয়োজনের মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার শিল্প চর্চার ওপর আন্তর্জাতিক বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করবে সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশন। এই অনন্য অ-বাণিজ্যিক সামিটে একসাথে ৫০০ এর অধিক প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিভাবান দক্ষিণ এশিয়ার শিল্পী তাদের শিল্পকর্ম প্রদর্শন করবেন। এরমধ্যে ৩০০ জনই হচ্ছেন বাংলাদেশের উদীয়মান ও প্রতিভাবান শিল্পী। আছেন প্রতিথযশা শিল্পীরাও।
সামিটে বাংলাদেশি শিল্পীদের জন্য কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন চিত্রশিল্পী বিশ্বজিৎ গোস্বামী। তার তত্ত্বাবধানে ‘রুটস’ বা ‘শেকড়’ শিরোনামে এক বিশেষ প্রদর্শনী রয়েছে এবারকার আয়োজনে। প্রতিথযশা শিল্পগুরু জয়নুল আবেদিন, এস এম সুলতান, কামরুল হাসানসহ বিশেষ করে দেশের চিত্রকলা শিক্ষাদানে অসামান্য অবদান রেখেছেন এমন শিল্পীদের জীবনকর্ম তুলে ধরা হবে ওই বিশেষ প্রদর্শনীতে।
ঢাকা আর্ট সামিটে অংশ নেবেন বাংলাদেশ, ভারত, আফগানিস্তান, ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, শ্রীলঙ্কা, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশের অত্যন্ত সুপরিচিত শিল্পীদের নিয়ে বিভিন্ন আর্ট প্রজেক্ট। থাকছে দেশ-বিদেশে শিল্প-সমালোচক, শিল্প-সংগ্রাহকদের অংশগ্রহণে আছে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, একক ও দলবদ্ধ বক্তৃতা। থাকবে শিল্পকলা বিষয় প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীও।
সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে ১২ জন বাছাইকৃত শিল্পীর সমন্বয়ে ‘সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদর্শনীর আয়োজনও থাকছে এবারকার আয়োজনেও। যার অংশীদারিত্বে থাকবে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক ডেলফিনা ফাউন্ডেশন। যারা দীর্ঘদিন ধরে শিল্প বিনিময়ের দিকে নজর রেখে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে মিডল ইস্ট, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ায়। এই দ্বিবার্ষিক সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য বাংলাদেশের ২২ থেকে ৪০ বছর বয়সী উদীয়মান ও প্রতিভাবান শিল্পীদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদানে সহায়তা করা। এবারকার অ্যাওয়ার্ডের জন্য সংক্ষিপ্ত তালিকায় আছেন- আরিফুল কবির, আশফিকা রহমান, ফাইহাম ইবনে শরীফ, হাবিবা নওরোজ,
নাজমুন নাহার কেয়া, পলাশ ভট্টাচার্যী, প্রমতি হোসেন, সোমা সুরভী জান্নাত, সৌনক দাস, সুমনা আক্তার, তাহিয়া ফারহিন হক ও জিহান করিম। ২০১৮ সালে এই অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হয়েছিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী, ২০১৬ সালে রাসেল চৌধুরী, ২০১৪ সালে আয়েশা সুলতানা ও ২০১২ সালে খালেদ হাসান ও মুসারাত রিয়াজী। সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ডের আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ড প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন ডেলফিনা ফাউন্ডেশনের পরিচালক এরন সেজার।
সামিটে অংশ নেয়ার জন্য বাংলাদেশের ১২টি আর্টিস্টগ্রুপকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যারা দলবদ্ধ হয়ে শিল্পকর্ম চর্চা করে থাকেন। গ্রুপগুলোর মধ্যে রয়ছে- আর্টপ্রো, ব্যাক আর্ট, চারুপীঠ, আকালিকো, গিদরি বাউলি, হিলস আর্টিস্ট গ্রুপ, যথাশিল্প, সাঁকো, শনি মঙ্গল আড্ডা অন্যতম।
ঢাকা আর্ট সামিট নান্দনিকভাবে সাজানোর জন্য কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক গ্যালারি ডিজাইনাররা। এবারকার আয়োজন অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সম্পূর্ণ ‘প্লাস্টিকমুক্ত’ প্রদর্শনী। কোনও কিছুতেই কোনোভাবেই প্লাস্টিক ব্যবহার করা হবে না। এমনকি বসার আসন পর্যন্তও। বিশেষ করে পরিবেশসম্মত কাগজ, বাঁশ, বেত ও কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। সাজ-সজ্জাকরণের জন্য সুইজারল্যান্ডের একটি স্বনামখ্যাত প্রতিষ্ঠাকে দায়িত্ব দেয়া হয়। স্থানীয় (বাংলাদেশ) অনুষঙ্গ ব্যবহার করে আধুনিকভাবে সাজ-সজ্জাকরণ করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে এবার কোনও এয়ারকন্ডিশনের ব্যবহার থাকবে না।
প্রদর্শনীর মূল প্রবশেপথ থেকে শুরু হবে মুগ্ধতা। প্রায় ৪শ মিলিয়ন বছরের ফসিলের আদলে বানানো হয়েছে প্রবেশদ্বার। এখান দিয়ে হেঁটে যাওয়া সময় এক অন্যরকম অনুভূতি দেবে প্রতিটি দর্শনার্থীকে সেই স্থাপনা।
এই প্রদর্শনী উপভোগ করতে কোনও টিকিট বা পাসের প্রয়োজন হবে না। সবার জন্য উন্মুক্ত। সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে যে কেউ প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে পারবেন কোনও রকম রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা ছাড়াই। প্রদর্শনী ঘুরে দেখতে এসে যাতে কেউ বিরক্তবোধ না করেন সেজন্য রয়েছে নানা আয়োজন। ক্ষুধা নিবারণের জন্য প্রদর্শনীস্থলে শিল্পকলা একাডেমির মাঠে স্থাপন করা হয়েছে ফুডকোর্ট। নিরাপত্তার কারণে বড় কোনও ব্যাগ বহন করা আয়োজকদের পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। সেই সাথে কোনও ধরনের খাবার, খাবার পানীয় ও তরলজাতীয় পদার্থ নিয়ে গ্যালারিতে প্রবেশ করা যাবে না।
ঢাকা আর্ট সামিট- ২০২০ ৫ম সংস্করণে সহায়তা প্রদান করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সহযোগী হিসেবে রয়েছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, টাইটেল স্পন্সর গোল্ডেন হার্ভেস্ট। বিস্তারিত তথ্যের জন্য www.dhakaartsummit.org থেকেও প্রদর্শনীর যাবতীয় তথ্য জানা যাবে।
একনজরে সামিট
● স্বাগতিক বাংলাদেশসহ ৪৪ দেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিষ্ঠিত এবং প্রতিভাবান শিল্পী অংশ নেবেন।
● ৯ (৭-১৫ ফেব্রুয়ারি) দিনের সামিট সাজানো হয়েছে সলো আর্ট এক্সিবিশন, পাবলিক আর্ট প্রজেক্ট, কিউরেটেড এক্সিবিশন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, একক ও দলবদ্ধ বক্তৃতা, এক্সপেরিমেন্টাল ফিল্ম প্রদর্শনী, লাইভ আর্ট পারফর্ম্যান্স, পাপেট শো, প্রিন্টমেকিং ওয়ার্কশপ সহ শিল্প ও শিল্পকলা নানা বিষয় দিয়ে। থাকবে শিল্পবিষয়ক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী।
● সামদানী আর্ট অ্যাওয়ার্ড হিসেবে থাকছে রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম।
● ৫ম ঢাকা আর্ট সামিটের প্রতিপাদ্য ‘SEISMIC MOVEMENTS’ বা ‘সঞ্চারণ’।
● ঢাকা আর্ট সামিটের বাংলাদেশের প্রায় তিন শতাধিক শিল্পী, সমালোচক ও শিল্পানুরাগী অংশ নেবেন।
● ‘মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুর্লভ আলোকচিত্রের বিশেষ প্রদর্শনী।
● এবারের ঢাকা আর্ট সামিটের সার্বিক দায়িত্বে আছেন সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক নাদিয়া সামদানী এবং দেশি-বিদেশি ৩২ জন কিউরেটরের সমন্বয়ে গঠিত ঢাকা আর্ট সামিটের চিফ কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন সামদানী আর্ট ফাউন্ডেশনের আর্টিস্টিক ডিরেক্টর ডায়না ক্যাম্পবেল বেটানকোর্ট। সাথে আছেন রুক্সমিনি আর কিউ চৌধুরী এবং তেরাসা আলবর।
● প্রদর্শনী সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

আজ মা-বাবার কাছে ফিরবেন আরিয়ান।

ছেলেকে আর্থার রোড জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ। দেশের বড় আইনজীবীদের নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। কারণ, এর আগে নিম্ন আদালতে আরি...