১৯২৯ সালে ভারতের ইন্দোরে জন্মেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। তাঁর গান ভারত ছাপিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বসংগীতের দরবারে। লতার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, ১৯৪২ সালের ২৪ এপ্রিল হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর মারা যান। বাবার কাছেই ছোটবেলায় গানের অ আ শিখেছিলেন দুই বোন লতা ও আশা। তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চের অভিনেতা।
মৃত্যুর সময় তেমন কিছু রেখে যেতে পারেননি দীননাথ। পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন লতাদের মা। কে ধরবে সংসারের হাল? গুরুদায়িত্বটা নিতে হলো কিশোরী লতাকে। সে সময় বাবার বন্ধু নবযুগ চিত্রপট চলচ্চিত্র কোম্পানির মালিক মাস্টার বিনায়ক পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ছোটবেলায় মাঝেমধ্যে চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন লতা। কিন্তু বিনায়ক তাঁকে গান আর অভিনয়—দুটিকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে শেখালেন। মারাঠি চলচ্চিত্রে গাওয়া তাঁর ‘খেলু সারি মানি হাউস ভারি’ গানটি সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায়। দমে যাননি লতা। মাস্টার বিনায়ক তাঁর চলচ্চিত্র ‘পাহিলি মঙ্গলা-গৌর’-এ লতা মঙ্গেশকরের জন্য ছোট একটি চরিত্র রেখেছিলেন। এ চলচ্চিত্রে দাদা চান্দেকারের লেখা গান ‘নাটালি চৈত্রাচি নাভালাল’-এ কণ্ঠ দেন তিনি। তখনো চলছে তাঁর জীবনের সঙ্গে নিত্যদিনের যুদ্ধ। চলচ্চিত্রের জীবনকে কখনো আপন করে নিতে পারেননি তিনি।

একদিন কাজ থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলেন। মাকে বলেছিলেন, কৃত্রিম অভিনয়ের এ জগৎ তাঁর ভালো লাগে না। কিন্তু কিছু করার ছিল না। পরিবারের দায়িত্ব যে তাঁর কাঁধে! বসন্ত যুগলকরের ‘আপ কি সেবা ম্যায়’ চলচ্চিত্রে প্রথম হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য গাইলেন ‘পা লাগো কার জোরি’ গানটি।
বিনায়কের মৃত্যুর পর সংগীত পরিচালক গুলাম হায়দার হন লতার গুরু। নিজের এক জন্মদিনে লতা বলেছিলেন, গুলাম হায়দার তাঁর জীবনে ‘গডফাদার’ ছিলেন। গুলাম হায়দারের হাত ধরে তাঁর জীবনে সুযোগ এল ‘মজবুর’ চলচ্চিত্রে ‘দিল মেরা তোড়া, মুঝে কাহি কা না ছোড়া’ গানটি গাওয়ার। এই এক গানের কারণেই বলিউড নতুন এই গায়িকাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। জীবনের প্রথম বড় ধরনের হিট ‘মহল’ চলচ্চিত্রের ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি, যে গানে ঠোঁট মেলান মধুবালা।













