Thursday, October 28, 2021

আজ মা-বাবার কাছে ফিরবেন আরিয়ান।

ছেলেকে আর্থার রোড জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ। দেশের বড় আইনজীবীদের নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। কারণ, এর আগে নিম্ন আদালতে আরিয়ানের জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। সবাই তাই বোম্বে হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে ছিল।


২৬ অক্টোবর থেকে বোম্বে হাইকোর্টে শুরু হয় আরিয়ানের মামলার শুনানি। ছেলেকে আর্থার রোড জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ।

২৬ অক্টোবর থেকে বোম্বে হাইকোর্টে শুরু হয় আরিয়ানের মামলার শুনানি
২৬ অক্টোবর থেকে বোম্বে হাইকোর্টে শুরু হয় আরিয়ানের মামলার শুনানি
ছবি: এএনআই

দেশের বড় আইনজীবীদের নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। কারণ, এর আগে নিম্ন আদালতে আরিয়ানের জামিনের আবেদন খারিজ করা হয়েছিল। সবাই তাই বোম্বে হাইকোর্টের দিকে তাকিয়ে ছিল। বোম্বে হাইকোর্টে এই মামলা লড়ার জন্য সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগিকে নিযুক্ত করেছিলেন শাহরুখ।
তিন দিন ধরে নানাভাবে আদালতকে তিনি বুঝিয়েছেন যে আরিয়ানের এই গ্রেপ্তার সম্পূর্ণ বেআইনি। এই দুঁদে আইনজীবী ১০টি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদালতের সামনে পেশ করেন। মুকুল রোহতগির যুক্তি ছিল যে আরিয়ান মাদক সেবন করেননি। এনসিবি তাঁর শারীরিক পরীক্ষাও করায়নি।

' অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন দিওয়ালির আলোভরা রাতগুলো হয়তোবা জেলের আঁধারে কাটাবেন আরিয়ান
' অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন দিওয়ালির আলোভরা রাতগুলো হয়তোবা জেলের আঁধারে কাটাবেন আরিয়ান

এনসিবির পক্ষের আইনজীবী অনিল সিং দাবি তুলেছিলেন যে আরিয়ান প্রমোদতরিতে আয়োজিত পার্টির মাদক ষড়যন্ত্রের সঙ্গে লিপ্ত। এই অভিযোগের বিরোধিতা করে মুকুল বলেন ২ অক্টোবর রাতে প্রমোদতরিতে আয়োজিত পার্টিতে অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন আরিয়ান। সেখানে আরবাজ ছাড়া বাকি সবাই ছিলেন তাঁর অপরিচিত। তাই ষড়যন্ত্রের প্রশ্নই এখানে আসে না।

হাইকোর্টে এই মামলার শুনানির তৃতীয়, অর্থাৎ শেষ দিন এনসিবির আইনজীবী অনিল সিং আদালতকে বলেন যে কারোর কাছ থেকে মাদক পাওয়া যায়নি মানে এই নয় যে সে নিরপরাধ।

আজ মা-বাবার কাছে ফিরবেন আরিয়ান

তিনি আরও বলেছেন, 'এটা মানছি যে গ্রেপ্তারের সময় কিছু নিয়ম মানা হয়নি। তবে রিমান্ড আদেশের পর তা সংশোধন করা হয়েছিল।' তিনি আদালতকে জানান যে আরিয়ানের এই গ্রেপ্তার আইন মেনেই হয়েছে। মুকুল রোহতগি এদিন আদালতে দাবি তুলে বলেন, আরিয়ানকে যিনি আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাঁকে কেন গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনজীবী অনিল সিং আদালতকে বলেন, 'আরিয়ান প্রায় দুই বছর ধরে মাদক সেবন করছেন। আর আরবাজ মার্চেন্ট তাঁর ছোটবেলার বন্ধু। আরবাজ আর আরিয়ান সেদিন একসঙ্গে মান্নাত থেকে বের হয়েছিলেন। আরিয়ান জানতেন যে আরবাজের কাছে মাদক আছে। আর প্রমোদতরিতে তাঁরা দুজন একই ঘরে থাকতেন।'

 বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরিয়ান, আরবাজ ও মুনমুনের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট
বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরিয়ান, আরবাজ ও মুনমুনের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট
ছবি: এএনআই

দুই পক্ষের দীর্ঘ বাগ্‌বিতণ্ডার পর বেশ কিছু শর্ত সাপেক্ষে আরিয়ান, আরবাজ ও মুনমুনের জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। আরিয়ানের পাসপোর্ট এনসিবির কাছে জমা রাখতে হবে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে শাহরুখপুত্র কথা বলতে পারবেন না। এই মামলার বাকি অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবেন না। তদন্তের স্বার্থে এনসিবি ডেকে পাঠালে আরিয়ানকে হাজির থাকতে হবে। আর এই তারকাপুত্রকে তদন্তে সব রকম সহযোগিতা করতে হবে। আর এসব শর্ত লঙ্ঘন করলে আরিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হবে।

 

Saturday, October 23, 2021

আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে: শাহরুখপুত্র

 

একাধিকবার জামিনের শুনানিতে হেরে গেছেন আরিয়ান খানের আইনজীবী সতীশ মানিশিন্দে।

যে কারণে শাহরুখপুত্রের এখন ঠিকানা মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের জেলে বন্দীজীবন পার করছেন। আগামী মঙ্গলবার ফের জামিনের শুনানি চলবে। সেদিন আরিয়ান জামিন পাবেন কি? তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মূলত আরিয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে পুঁজি করেই জিতে যাচ্ছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)।

প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেলে তথ্যপ্রমাণ নয়ছয় করতে পারেন তিনি— জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় এনসিবির এই যুক্তিতে বারবারই সহমত দিয়েছেন বিশেষ আদালতে। 

কিন্তু যেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে ঘিরে এতো যুক্তি দাঁড় করেছে এনসিবি —  তার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি আরিয়ানের।

আরিয়ান দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভুল ব্যাখ্যা করছে এনসিবি। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। 

জামিনের জন্য আবেদন করে হাইকোর্টকে এমনই বললেন শাহরুখপুত্র।

বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আরিয়ান। ২৬ অক্টোবর তার জামিনের শুনানি। 

সেখানে আরিয়ান বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে ‘ভুল এবং অন্যায়’ ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই পার্টিতে আমার কাছ থেকে কোনো মাদক পায়নি এনসিবির গোয়েন্দারা। ওই পার্টিতে আসা আরবাজ শেঠ মার্চেন্ট ছাড়া আর কারও সঙ্গেই পরিচয় নেই আমার। হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে এনসিবি যে তদন্ত চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এই মাদককাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আইনত আগে থেকেই ধরে নেওয়া যায় না যে একজন ব্যক্তি প্রভাবশালী হলেই তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করবেন। 

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত মাদককাণ্ডে মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করেছেন এনসিবি। এরই মধ্যে আরিয়ানের সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের জেরে তৃতীয় দফায় তলব করা হয়েছে বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকে। সোমবার তাকে তলব করা হয়।

আরিয়ান খানের বাল্যবন্ধু অনন্যা। 

এনসিবির কর্মকর্তাদের দাবি, একটি কথোপকথনে আরিয়ানকে গাঁজার যোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অনন্যা।

ওই কথোপকথনে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘আমি ব্যবস্থা করব।’
 

 

একাধিকবার জামিনের শুনানিতে হেরে গেছেন আরিয়ান খানের আইনজীবী সতীশ মানিশিন্দে।

যে কারণে শাহরুখপুত্রের এখন ঠিকানা মুম্বাইয়ের আর্থার রোডের জেলে বন্দীজীবন পার করছেন। আগামী মঙ্গলবার ফের জামিনের শুনানি চলবে। সেদিন আরিয়ান জামিন পাবেন কি? তা এখনও স্পষ্ট নয়।

মূলত আরিয়ানের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে পুঁজি করেই জিতে যাচ্ছে ভারতের মাদক নিয়ন্ত্রক সংস্থা (এনসিবি)।

প্রভাবশালী হওয়ায় জামিন পেলে তথ্যপ্রমাণ নয়ছয় করতে পারেন তিনি— জামিনের আবেদন খারিজ করার সময় এনসিবির এই যুক্তিতে বারবারই সহমত দিয়েছেন বিশেষ আদালতে। 

কিন্তু যেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটকে ঘিরে এতো যুক্তি দাঁড় করেছে এনসিবি —  তার কোনো ভিত্তি নেই বলে দাবি আরিয়ানের।

আরিয়ান দাবি করেছেন, তার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের ভুল ব্যাখ্যা করছে এনসিবি। তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। 

জামিনের জন্য আবেদন করে হাইকোর্টকে এমনই বললেন শাহরুখপুত্র।

বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আরিয়ান। ২৬ অক্টোবর তার জামিনের শুনানি। 

সেখানে আরিয়ান বলেন, আমার হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনকে ‘ভুল এবং অন্যায়’ ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ওই পার্টিতে আমার কাছ থেকে কোনো মাদক পায়নি এনসিবির গোয়েন্দারা। ওই পার্টিতে আসা আরবাজ শেঠ মার্চেন্ট ছাড়া আর কারও সঙ্গেই পরিচয় নেই আমার। হোয়াটসঅ্যাপে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে এনসিবি যে তদন্ত চালাচ্ছে, তার সঙ্গে এই মাদককাণ্ডের কোনো যোগসূত্র নেই। আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, আইনত আগে থেকেই ধরে নেওয়া যায় না যে একজন ব্যক্তি প্রভাবশালী হলেই তিনি তথ্যপ্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করবেন। 

উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত মাদককাণ্ডে মোট ২০ জনকে গ্রেফতার করেছেন এনসিবি। এরই মধ্যে আরিয়ানের সেই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের জেরে তৃতীয় দফায় তলব করা হয়েছে বলিউডের উঠতি অভিনেত্রী অনন্যা পাণ্ডেকে। সোমবার তাকে তলব করা হয়।

আরিয়ান খানের বাল্যবন্ধু অনন্যা। 

এনসিবির কর্মকর্তাদের দাবি, একটি কথোপকথনে আরিয়ানকে গাঁজার যোগান দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন অনন্যা।

ওই কথোপকথনে অভিনেত্রী লিখেছিলেন, ‘আমি ব্যবস্থা করব।’
 

 

Wednesday, December 23, 2020

নাট্যজন মান্নান হীরার জীবনাবসান

 


 

নাট্যাঙ্গনের মানুষদের শোকের সাগরে ভাসিয়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন নাট্যকার, নির্দেশক ও পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা। রাজধানীর কাকরাইলের ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে আজ বুধবার রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

তার মৃত্যুতে নাট্যাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রিয় নাট্যকর্মীর মৃত্যুর সংবাদ শুনে অনেকেই হাসপাতালে ছুটে যান। মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ থিয়েটারের প্রধান খন্দকার শাহ আলম। জানা যায়, বিকেলের দিকে হঠাৎ বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামি ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। হাসপাতালটিতে ভর্তির পর তার অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে। আর সেখানেই আনুমানিক রাত সাড়ে আটটার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

এ রিপোর্ট লেখার সময় দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। মান্নান হীরা দীর্ঘদিন যাবৎ পথ নাটকের আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তিনি পথ নাটক পরিষদের সভাপতি ও আরণ্যক নাট্যদলের অধিকর্তা। তিনি প্রায় ১৫টি নাটক লিখেছেন। 

উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে আছে লাল জমিন, ভাগের মানুষ, ময়ূর সিংহাসন, সাদা-কালো ইত্যাদি। ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ মান্নান হীরা রচিত ও নির্দেশিত অন্যতম পথনাটক। ২০১৪ সালে তিনি সরকারের অনুদানে শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘একাত্তরের ক্ষুদিরাম’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। ২০০৬ সালে নাটক শ্রেণিতে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন।

Friday, October 2, 2020

গাজী মাজহারুল আনোয়ার : বাংলা গানের সূর্য

 

মানুষ এক জীবনে হাজার হাজার কোটি টাকা উপার্জন করে, গাড়ি করে, বাড়ি করে; একটা সময় সবই চলে যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ও শান শওকতের অধিকারী সম্রাটের ক্ষমতা হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে। মাটিতে মিশে গেছে মানুষের গড়া অনেক গর্বিত সভ্যতাও। তার ভিড়ে কিছু মানুষ এমন কিছু কাজ করে গেছেন যা শত সহস্র বছর পেরিয়েও এই পৃথিবীতে টিকে আছে নন্দিত হয়ে, অনুপ্রেরণায়।

সেই অনুপ্রেরণার পৃথিবীতে গাজী মাজহারুল আনোয়ার লিখলেন অনবদ্য এক ইতিহাস। প্রায় ৩০ হাজার গান লিখেছেন তিনি। যা অবিশ্বাস্য, বিস্ময়কর ও অসাধারণ এক সাফল্য। মুক্তিযুদ্ধ, দেশপ্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ, প্রেম, বিরহ, স্নেহ; অনুভূতির বৈচিত্রময় প্রকাশে গেল কয়েক দশক ধরেই এদেশের মানুষের কাছে খুব প্রিয় গাজী মাজহারুল আনোয়ারের লেখা গান। অসংখ্য কালজয়ী গানের স্রষ্টা তিনি। আমাদের সংগীতের জীবন্ত কিংবদন্তি। বিবিসি বাংলার তৈরি করা করা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বিশটি বাংলা গানের তালিকায় রয়েছে তার লেখা তিনটি গান। এটাও এক বিরল সম্মান বটে।

গানের বাইরেও গাজী মাজহারুল আনোয়ার বিকশিত হয়েছেন একজন চলচ্চিত্র চিত্রনাট্যকার, পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও। কর্মের স্বীকৃতি হিসেবে এক জীবনে কোটি মানুষের ভালোবাসা ও দোয়াকেই সেরা বলে মনে করেন। পেয়েছেন বেশ কয়েকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি ২০০২ সালে বাংলাদেশের একুশে পদকও লাভ করেন।

সম্প্রতি তার বাসভবনে হয়ে গেল এক ঘরোয়া আড্ডা। যেখানে চেনাজানা সদালাপী গাজী মাজহারুল আনোয়ারকেই পাওয়া গেল। পাশাপাশি জানা গেল তার কিছু অজানা অধ্যায়-

কুমিল্লায় সূর্য উঠেছে
জন্মেছেন কুমিল্লায়। দাউদকান্দি থানার তালেশ্বর গ্রাম তার। বনেদি পরিবারের সন্তান। দাদা ও দাদি দুজনই ছিলেন জমিদার বংশের। বাবা ব্রিটিশ আমলের আইনজীবী। সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে। বেড়ে উঠেছেন কুমিল্লাতেই। তার প্রথম স্কুল কুমিল্লা জেলা স্কুল। এরপর কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে। জীবনের দারুণ সময় কেটেছে তার কুমিল্লায়। শিক্ষীজীবনের সেইসব দিন আজও ফিরে এসে স্মৃতির আয়নায় ভেসে উঠে, ডুবে যায়; সোনালি পোশাকে।

বড় দুঃখ নিয়ে বাবা লিখলেন, ‘ইউ আর মাই লস্ট গেম’
সব পিতামাতাই প্রত্যাশা করে ছেলে বড় হবে, নাম করবে। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বাবা ও মা-ও সেটা করতেন। সন্তান নিয়ে এটুকু বাবা-মায়ের অধিকার। তবে তাই বলে ছেলের স্বাধীন জীবনে তারা খুব একটা হস্তক্ষেপ করেননি। কারণ ছোটবেলা থেকেই ভিষণ মেধাবী ছিলেন গাজী। বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন। আইনজীবী বাবা চাইতেন ছেলে ডাক্তার হবে। কলেজ শেষ করে ছেলে ভর্তিও হলেন ঢাকা মেডিকেলে। কিন্তু ওষুধের গন্ধ, মরে পঁচে গলে পড়ে থাকা লাশের গন্ধ, হাসপাতালের দিনযাপন সহ্য করতে পারলেন না। সিদ্ধান্ত নিলেন ডাক্তারি ছেড়ে দেবেন। সুন্দরী ক্লাসমেট অবাক হলো। সে সাহস দিলো, বললো সবরকম সহযোগিতা করবে। ধীরে ধীরে সব ঠিক হয়ে যাবে। এই সেই। গাজী মাজহারুল আনোয়ার ধারণা করলেন ওই সুন্দরী সহপাঠিনী তার প্রেমে পড়েছেন। তবে সেই প্রেম ডাক্তারি পড়ার সাহস দিতে পারলো না। অগ্যতা ‘বিদায় জিন্দাবাদ’ বলে দিলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজকে। সেই সময়টাতেই তিনি শুরু করলেন গান লেখা। এ খবর বাবার কানে যেতেই বাবা বড় বিষাদ-বেদনা নিয়ে চিঠি লিখলেন, ‘ইউ আর মাই লস্ট গেম’।

‘প্রথমত বাবা মানতে পারেননি আমি ডাক্তারি ছেড়ে দিয়েছি। তারপর যখন শুনলেন আমি গান লিখে বেড়াচ্ছি খুব হতাশ হয়ে গেলেন। ধরেই নিলেন ছেলের গতি আর হবে না। বড় দুঃখ নিয়ে তিনি আমাকে চিঠিতে লিখেছিলেন, আমি তার হারিয়ে যাওয়া নাম। তবে সেই কথায় তিনি অটল থাকতে পারেননি। যখন বেশ নাম ডাক হলো একদিন ডাকলেন। কাছে যেতেই বুকে জড়িয়ে নিলেন। বললেন, ‘তুমি কখনোই আমার হারিয়ে ফেলা ছেলে নও।’ সেদিন খুব আনন্দ হয়েছিলো। মনে হয়েছিলো যাক, বাবার স্বপ্ন পূরণ না করতে পারলেও তাকে অন্তত লজ্জিত করিনি বোঝা গেল’- যোগ করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

Gazi-05.jpg

দাদার দেয়া রঙিন সেই পাঁচ টাকার নোট
আমার দাদা জমিদার ছিলেন। বিশাল এলাকা ছিলো তার। দাদীও জমিদার বাড়ির মেয়ে। ছেলেবেলায় দাদা-দাদীর কাছে যেতাম, দারুণ সময় কাটতো। দাদা ছিলেন সুফি টাইপের মানুষ। অনেক কিছু চিন্তা করে কাজ করতেন, কথা বলতেন। একবার আমের মৌসুমে বাড়ি গেলাম। দাদা একটা একটা করে আম খেতে দিচ্ছেন। তাই দেখে দাদী রেগে গেলেন। বললেন, ‘চারদিকে এত এত আম গাছ। আম পড়ছে, পঁচে গলে যাচ্ছে। আর তুমি আমাদের নাতিদের গুনে গুনে আম খাওয়াচ্ছো?’ দাদা উত্তর দিলেন, ‘দেখো আমি ওদের একেক প্রজাতির আম একটা একটা করে খাওয়াচ্ছি। যাতে করে ওরা বুঝতে পারে ভালো কোনটা আর মন্দ কোনটা। জীবনে ভালো মন্দ বিচার করতে পারাটা জরুরি। ছেড়ে দিলে ওরা তো সব আম একসাথে খেয়ে বুঝতে পারবে না কোনটার স্বাদ কেমন।’ দাদার সেই কথাটা আজও মনে পড়ে।

সেই দাদা আমাকে প্রথমবার গানের জন্য পারিশ্রমিক দিয়েছিলেন। গল্পটা হলো গ্রামে তখন কিছু লোকজন দলবেঁধে গান শোনাতো। লোকে তাদের গান শুনে টাকা দিতো। সেটা বেশিরভাগ সময়ই রাতের বেলায় হতো। একদিন সকালে দাদা আমাকে বললেন, ‘কাল রাতে গানের দল যে গানটি গেয়েছে তুমি কি তার দুটি লাইন বলতে পারবে? যদি পারো পাঁচ টাকা পাবে।’ চেয়ে দেখলাম দাদার সাদা পাঞ্জাবীর বুক পকেটে লাল রঙের পাঁচ টাকার নোট। টাকার লোভে হরহর করে বলে দিলাম গানের দুটি লাইন। সেটি ছিলো গানের কোরাস। বারবার গাইছিলো শিল্পীরা। তাই মনে ও মগজে ঢুকে গিয়েছিলো। দাদা শুনে খুব খুশি হলেন। টাকাটাও দিলেন।

দাদা ওই বয়সে পাঁচ টাকার লোভ দেখিয়ে ভালো করলেন না মন্দ করলেন জানি না। তবে গানের জন্য আমাকে প্রথম পারিশ্রমিকটা দাদাই দিয়েছিলেন। সেটা হয়তো একটা ইশারা ছিলো আমি গানেই ক্যারিয়ার গড়ে তুলবো।

ষাট দশকে মালিবাগের উত্তাল দিনগুলো
ষাটের দশক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তখন। নানা ইস্যুতে উত্তাল তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান। মিছিল, মিটিং, আন্দোলন, বিপ্লব- চলছেই। তখন মালিবাগে থাকতেন তরুণ গাজী মাজহারুল আনোয়ার। এক ভ্যান চালক স্ত্রীকে নিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তাকে রান্না করে খাওয়াবে সেই চুক্তিতে। ১৯৬৩ সাল থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি গান লেখালেখি শুরু করেন তিনি।

তখন আলতাফ মাহমুদদের মতো গুণি মানুষদের সঙ্গে পরিচয় ঘটে। ডিআইটি রোডে বিটিভি তখন। সেখানকার স্টুডিওতেই কাটতো সময়। নিয়মিত যেতেন রেডিওতেও। দেশের গানের সোনালি যুগ চলছিলো। তবে অস্থিরতার মধ্যেও সময় কাটাতে হতো। যখন তখন পুলিশ-মিলিটারির হানা।

আলতাফ মাহমুদের সঙ্গে ইয়াহিয়া খানকে নিয়ে একটি গান লিখে বিপদে পড়ে গেলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। তার নামে ওয়ারেন্ট জারি হলো। আলতাফ মাহমুদ বলে দিলেন একটু সাবধানে থাকতে। বাধ্য হয়ে লুকিয়ে চলাফেরা করতে হতো।

‘এইসব আতঙ্কের মধ্যেই ডিআইটি রোডে বিটিভির স্টুডিওতে বসে আছি। নতুন গানের কাজ চলছিলো। হঠাৎ বিকট আওয়াজ। সবাই ভয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। আমি আর বের হতে পারিনি। মিলিটারি এসে ধরলো। পরিচয় দিলাম গান লিখি। বললাম যে সরকারি রেডিও-টিভি’র জন্য গান লিখি। ফিল্মেও চেষ্টা করছি। ওরা খুব একটা বিশ্বাস করলো না। বললো, ‘তাহলে চল, এফডিসির রাস্তা দেখিয়ে নিয়ে চল আমাদের।’ কি আর করা। ভয় নিয়েই ওদের সঙ্গে গাড়িতে উঠে বসলাম। পিঠে বন্ধুক ধরা। মনে মনে ভাবছি, ইয়াহিয়া বিরুদ্ধে গানটা যে লিখেছি আমি সেটা ওরা জানে না, এই রক্ষা। এফডিসি নিয়ে গেলাম। তখন গেট ছিলো পেছনের দিকে। এফডিসি চিনি দেখে ভাবলো যে মিথ্যে বলিনি। গেটের সামনে নিয়ে একটা লাথি মেরে আমাকে ফেলে চলে গেল। ব্যথা পেয়েছিলাম কি না সেটা আর অনুভব করিনি। ওরা চলে গেছে তাতেই শান্তি। তখন বিশাল গোফওয়ালা এক দারোয়ান ছিলেন এফডিসিতে। তিনি আমাকে চিনতেন। ভেতরে নিয়ে তিনি সেবা করলেন’- স্মৃতিচারণে বললেন কিংবদন্তি গীতিকবি।

তিনি জানান, এই মিলিটারিরা বাংলাদেশ বেতারের অনেক ক্ষতি করে গেছে। যাবার সময় সব কাগজপত্র পুড়িয়ে দিয়েছিলো তারা। অনেক গানের কোনো হিসেব পাই না আমি। হয়তো আরও অনেকেরই এমনটা হয়েছে।

Gazi-05.jpg

মায়ের চিঠির জবাব দিতে গিয়ে তৈরি হলো বিখ্যাত গান
আমি পুলিশ-মিলিটারির ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। অনেকদিন বাড়ি যাই না। মা চিঠি লিখলেন। ঝাপসা লেখার একটা চিঠি। মনে হয় লিখতে লিখতে কাঁদছিলেন। কাগজে চোখর পানি পড়েছিলো। হয়তো অনেক কিছুই লিখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কীভাবে কী বলবেন বুঝে উঠতে পারেননি। বকবেন নাকি শাসন করবেন! মাত্র এক লাইনের একটি চিঠি দিলেন। তার জবাব দিতে আমি লিখলাম, ‘মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানি মাসি হতে দেবোনা/ তোমার মাথার খোঁপারই ফুল বাসি হতে দেবোনা/ তোমায় মাগো কারো ঘরের দাসি হতে দেবোনা’। সেটি পরে গান হিসেবে লিখে শেষ করি। গেয়েছিলেন সাবিনা ইয়াসমিন। এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছিলো।

জয় বাংলা বাংলার জয়
১৯৭০ সালের ৭ মার্চ, রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ডাক দিলেন। দেশের মানুষ ঝাপিয়ে পড়লো স্বাধীনতার জন্য সেই ডাকে সাড়া দিয়ে। বঙ্গবন্ধু ভাষণ শেষ করলেন ‘জয় বাংলা’ দিয়ে। সেই জয় বাংলার বারুদ ছড়িয়ে গেল সর্বত্র। যেদিন ভাষণ দিলেন সেদিনের সন্ধ্যায় ফার্মগেটে একটি স্টুডিওতে বসে আছি। সেটি তখন খুব বিখ্যাত স্টুডিও। বড় বড় সব গানের মানুষদের আনাগোনা। সেখানে ছিলেন সালাহউদ্দিন স্যার। তিনি আমার স্কুলের স্যার ছিলেন। বললেন, ‘জয় বাংলা’ নিয়ে একটা কাজ করতে পারো। এই মুহূর্তে এটা প্রচার করা খুব জরুরি। মানুষকে উৎসাহ দেবে। আমি ভাবতে থাকলাম ‘জয় বাংলা’ নিয়ে কি লেখা যায়। শেষে বাংলা শব্দটা থাকলে ছন্দ মেলাতে কষ্ট হচ্ছে। ভালো শব্দ পাই না। বাংলা, হ্যাংলা....! তারপর সেটাকে ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ করে নিলাম। দেখলাম দ্রুতই গান দাঁড়িয়ে গেল। আনোয়ার পারভেজকে ফোন করে বললাম স্টুডিওতে আসতে। সঙ্গে যেন শাহিনকেও (সংগীতশিল্পী শাহনাজ রহমতুল্লাহ) নিয়ে আসে। আব্দুল জব্বারকেও আসতে বললাম।

এদিকে হঠাৎ ঢুকলেন আলতাফ মাহমুদ। তিনি দেখলেন আমি লিখছি। কাগজটা নিয়েই বললেন, ‘বাহ, দারুণ হয়েছে তো। দে সুর করি।’ কাগজটা নিয়ে হারমোনি টান দিয়ে বসেই সুর করে ফেললেন। আমি বললাম, ‘আনোয়ার পারভেজ আসছে। আপনি বসেন।’ পরে আনোয়ার পারভেজ এলো, আলাউদ্দিন আলী এলো, জব্বার, শাহিন। সবাই মিলে দেখলাম গানটি তৈরি হলো। এর সুর-সংগীত করলো আনোয়ার পারভেজ। শাহিন আর জব্বার গাইলো। সঙ্গে আরও অনেক শিল্পী ছিলেন। গান তৈরি করে বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে গেলাম। তিনি শুনে খুব পছন্দ করলেন। বললেন এই গান দিয়েই যাত্রা করবে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র। আর গান প্রকাশ হতেই রাতারাতি সবার মুখে মুখে চলে গেল ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’।

ওস্তাদ সত্য সাহা এবং সিগেমার প্রথম গান
আমার ওস্তাদ সত্য সাহা। তার স্নেহ-ভালোবাসা আমার জীবনের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে। তার হাত ধরেই সিগেমায় গান লেখা শুরু করলাম। মুক্তিযুদ্ধের আগে আগে। আমাকে নিয়ে গেলেন সুভাষ দত্তের কাছে। বললেন আপনার নতুন ছবিতে এ ছেলে গান লিখবে। সুভাষ দত্ত আমার দিকে তাকিয়ে দেখলেন, অল্প বয়স। ভালো করে গোফই উঠেনি। তিনি বিরক্ত হলেন। সত্য সাহার জন্য কিছু বলতেও পারলেন না। আমাকে গানের সিচুয়েশন বুঝিয়ে দিয়ে ভেতরে চলে গেলেন।

আমি আর সত্য দা চেষ্টা করে যাচ্ছি। উনি বললেন, একদম টেনশান করবি না। তুই পারবি। জাস্ট সিচুয়েশনটা কল্পনা করে দেখ মনে কি আসে। ব্যস, লিখলাম প্রথম লাইন, ‘আকাশের হাতে আছে একরাশ নীল’। সেটাই সুরে তুললেন সত্য দা। আরও কয়েক লাইন লিখলাম। আমাদের কাছে এসে সুভাষ দা বললেন, ‘এই, ভালোই তো লাগছে জিনিসটা। শেষ করো তাহলে।’

গান শেষ হলো। ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ সিগেমায় আঞ্জুমান আরা বেগমের গাওয়া সেই গানের আবেদন আজও ফুরায়নি।

বন্ধুরাজ রাজ্জাক.....
একটা সময় চলচ্চিত্রের মানুষদের আড্ডার প্রিয় স্থান ছিলো প্রয়াত নায়করাজ রাজ্জাকের বাসা আর গাজী মাজহারুল আনোয়ারের বাসা। এই দুজন আবার ছিলেন বিশেষ বন্ধু। গাজী মাজহারুল আনোয়ারের ভাষায়, ‘চলচ্চিত্রে যদি কেউ আমার বন্ধু থেকে থাকে সে হচ্ছে রাজ্জাক। আমি প্রায় ৪৩টি ছবি প্রযোজনা করেছি, তার প্রায় সবগুলোতেই রাজ্জাক অভিনয় করেছেন। কত বিপদ আপদের বন্ধু সে আমার। ওর মতো বন্ধু থাকলে আড্ডার জন্য তৃতীয় ব্যক্তি খোঁজা লাগে না। একাই জমিয়ে রাখতে পারতো।’

তাকে হারিয়ে ফেলাটা চলচ্চিত্রের জন্য ‘গ্রেট লস’ বলে মনে করেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার।

Gazi-05.jpg

শাবানার দেয়া কষ্ট মুছে দিলেন শবনম
ছবির নাম সন্ধি। রাজ্জাক, শবনম, জাফর ইকবাল, সুচরিতা অভিনীত এ ছবি সুপারহিট হয়েছিলো। ঠিক হলো রাজ্জাক-শাবানা জুটি কাজ করবেন। সব চূড়ান্ত। শুটিংয়ের কয়েকদিন আগে শাবানা বলে দিলেন তিনি কাজটি করতে পারবেন না। শিডিউল মিলছে না। কষ্ট পেলেন ছবির প্রযোজক, পরিচালক গাজী মাজহারুল আনোয়ার। ঘটনা শুনে নায়ক রাজ্জাকও বিরক্ত হলেন। তিনি বলে দিলেন, ‘দেখ গাজী, এই ছবিতে শাবানার মতো তারকাকেই নিতে হবে। প্রয়োজনে আমি পারিশ্রমিকে ছাড় দেবো। তুই ব্যবস্থা কর যেমনে পারিস।’ বিষয়টা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়ে গেল। অনেক ভেবে চিন্তে গাজী মাজহারুল আনোয়ার ফোন করলেন বলিউডের বিখ্যাত গীতিকবি জাভেদ আকতারকে। তার স্ত্রী শাবানা আজমিকে কাস্ট করবেন ‘সন্ধি’ ছবিতে। মোটামুটি সব ঠিক হলো। কিন্তু সেখানেও জটিলতা দেখা দিলো। পরে সত্য সাহা ঘটনা শুনে পরামর্শ দিলেন শবনমকে নেয়ার জন্য।

‘উনার নাম মাথাতেই ছিলো না। সত্য দা মনে করিয়ে দিলেন। আমি যেন আকাশ ধরে ফেললাম হাতে। যেভাবেই হোক শবনমকে নিয়েই কাজটি করবো ঠিক করলাম। তিনি পাকিস্তান পিরিয়ড থেকেই তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা। তার স্বামী রবিন ঘোষের সঙ্গে আমি কাজ করেছি। খুব ভালো পরিচয়। কথা বললাম। তিনি শবনমের নাম্বার দিলেন, তাকে বলেও দিলেন আমার কথা। শবনম তখন লন্ডনে। ফোনে কথা হলো। কোনোদিন ভুলবো না। সে কি রেসপেক্ট, কী আন্তরিকতা। ছবির প্রস্তাব পেয়েই বললেন, ‘আমার স্বামী বলে দিয়েছে আমি যেন আপনার কাছে কোনো পারিশ্রমিক না চাই। তা কবে থেকে শুটিং শুরু করবেন বলুন। আমি প্রস্তুত।’ তার মুখে কথাগুলো শুনে খুশিতে আত্মহারা হয়ে গেলাম। সব চূড়ান্ত করে রাজ্জাককে জানাতেই সে লাফিয়ে বললো, ‘শাবানার না থাকার চেয়ে বড় খুশির খবর হলো শবনম আছেন।’

বউ..... তোমারে সেলাম
১৯৭২ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর গাজী মাজহারুল আনোয়ার জোহরা হোসেইনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। জোহরা হোসেইন বিটিভির সংবাদ পাঠিকা, মহিলাবিষয়ক সংস্কৃতি অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। ইস্ট পাকিস্তান স্পোর্টসের রানিং আইটেম চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা দেশ চিত্রকথার কর্ণধার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে সবকিছু থেকেই হঠাৎ অব্যাহতি নেন। মন দেন সংসারে। কারণ, স্বামী-স্ত্রী দুজনেই ব্যস্ত হয়ে পড়লে ভোগান্তির শিকার হবে সংসার-সন্তান।

গাজী মাজহারুল আনোয়ার বলেন, ‘কীভাবে বললে বলা হবে জানি না, তবে আমার স্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। নারীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে কবি নজরুলের মতো আর কোনো কবি এভাবে বলতে পারেননি, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।’ এই আমি আজকের যে মানুষটা, এত নাম, সুনাম আর আলোচনা- সবকিছুর পেছনে আমার স্ত্রীই আসল শিল্পী। সে নিজের ক্যারিয়ার স্যাক্রিফাইস করে আমাকে সবরকম চিন্তা থেকে, ব্যস্ততা থেকে মুক্তি দিয়ে সৃষ্টিশীলতার সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছে। সংসার সামলেছে, সন্তান মানুষ করেছে।’

প্রেমিকাদের জন্য- এই মন তোমাকে দিলাম
গীতিকার হিসেবে পরিচিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ে ভক্তও বেড়ে গেল অনেক। প্রায়ই চিঠি পেতাম। অনেকে লিখতেন তাকে নিয়ে যেন একটা গান লিখি। অনেক আড্ডা-অনুষ্ঠানেও অনেকে বলতেন, তাকে নিয়ে যেন একটা গান লিখি। আমারও ইচ্ছে করতো লিখি (হা হা হা)। কিন্তু এতজনের জন্য গান লেখা তো পসিবল না। তাই সবাইকে খুশি করতে লিখলাম, ‘এই মন তোমাকে দিলাম’। এরপর যেই বলেছে, আমাকে নিয়ে একটা গান লেখো, তাকেই বলেছি ‘এই মন তোমাকে দিলাম’ শুনে নিও।

মুক্তির দূত বঙ্গবন্ধু
বঙ্গবন্ধুকে দেখেছেন কাছ থেকে। তার স্নেহের স্পর্শ নেয়ার সৌভাগ্যও হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধেও। তাকে নিয়ে আজ নানা রকম অবমূল্যায়ন ব্যথিত করে গাজী মাজহারুল আনোয়ারকে। তিনি বলেন, ‘কিছু মানুষকে স্রষ্টা পাঠান মুক্তির দূত হিসেবে। এরা স্পেশাল ওয়ান। আসেন, মুক্তির আলো ছড়িয়ে যান। আমাদের জন্য এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তিনি আমাদের এখানে নেতাদেরও নেতা, দেশ ও দেশের মানুষের সবচেয়ে আপনজন। তার মতো বড় দেশপ্রেমিক এদেশে কেউ নেই, হবেও না। আমৃত্যু দেশের জন্য তিনি কাজ করেছেন। সবাই যখন চুপ বা আপোষের কথা ভাবছেন তখন তিনি প্রতিবাদ করতে পারতেন। এজন্য তাকে বহু নির্যাতনও ভোগ করতে হয়েছে। কারাগারে গিয়েছেন বহুবার। তার জন্য একটা স্যুটকেস সবসময়ই তৈরিই থাকতো। যখন পুলিশ আসতো তিনি বেগম মুজিবকে ডাকতেন, ‘কই জামাল কামালের মা, ব্যাগটা গুছিয়ে দাও।’ এমনভাবে বলতেন মনে হতো বেড়াতে যাচ্ছেন।

তার ব্যক্তিত্ব চুম্বকের মতো টানে। তাকে যারা সামনে থেকে দেখেছেন সেটা তারাই অনুধাবণ করতে পারবেন। তার প্রতি মুগ্ধ হয়েই লিখেছিলাম, ‘হে বন্ধু বঙ্গবন্ধু তোমার কালো ফ্রেমের চশমাটা আমায় দাও, আমি চোখে দিয়ে দেখব তুমি কেমন করে দেশটাকে এত ভালোবাসো, যতবার চাই কাছে পেতে ততবারই তুমি আসো, তুমি গানের মতো আসো, তুমি কবিতার মতো আসো’ কবিতা। মুক্তিযুদ্ধের পর যখন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম কবিতাটি নিয়ে গিয়েছিলাম। শুনেছিলাম, এটি তিনি বাঁধাই করে ঘরের দেয়ালে রেখেছিলেন। চলতি বছরে কবিতাটি গান হিসেবে গেয়েছেন কুমার বিশ্বজিৎ।

তাকে নিয়ে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়। ভুল মানুষ করে। কিন্তু যার গুণ একটি জাতিকে স্বাধীনতা দিয়েছে, একটি দেশ ও পৃথিবীকে রাজনীতির মাঠে সমৃদ্ধ করেছে তার ভুল নিয়ে আলোচনা করে গর্বিত হবার কিছু নেই। যারা করেন তারা আলোচনার জন্য করেন। ইতিহাসকে ঠেলে ঠেলেও একচুল নড়ানো যায় না।’

বীরাঙ্গনাদের কেউ নেই
মুক্তিযুদ্ধ শেষ হলো। যে হিসেব আমরা পেয়েছি মানুষ তার চেয়েও অনেক বেশি মারা গেছে। তবু দেশ স্বাধীন হলো রক্তের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে। সবাই বাড়ি ফিরলো। সবকিছুই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায়। কিন্তু একটা শ্রেণি অসহায় থেকে গেল। তারা হলেন বীরাঙ্গনা। তাদের কথা কেউ বলেনি, বলতো না। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে হয়তো তারা প্রাপ্য সম্মানটা পেতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সেটা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের পর বেশ লম্বা একটা সময় ধরে বীরাঙ্গনাদের অসহ্য় দিনযাপন করতে হয়েছে। তাদের নিয়ে বক্তৃতা হয়েছে, ব্যবসা হয়েছে আবেগের। কিন্তু কাজের কাজটা হয়নি। তাদের সামাজিক সম্মান তৈরি করা যায়নি। সেটা নিয়ে একটা গান লিখেছিলাম। সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন। ‘ওকে আর করলো না কেউ বিয়ে/ অনেক কথা লেখা হলো পত্রিকাতে/ অনেক কথা শোনা হলো বক্তৃতাতে/ কত কথা কইলো সবাই ওকে নিয়ে’- কথার গানটির সুর ও সংগীত করেছেন আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল।

Gazi-05.jpg

রাজনীতির নই, আমি সংস্কৃতির
রাজনৈতিক দলগুলোতে আমার গান ও গানের লাইন ব্যবহার হয় এটা নিয়ে অনেক কথাই শুনি। আমি এসব কানে নেই না। আমি মনে রাজনৈতিক পরিচয় মানুষের জন্য হয়তো জরুরি কিন্তু তার সৃষ্টির জন্য নয়। আমি যা কিছু সৃষ্টি করেছি তার মানুষের জন্য। আমি সংস্কৃতির সেবক হিসেবে আজীবন কাজ করার চেষ্টা করেছি। যখনই মনে হয়েছে রাষ্ট্র বা দেশের রাজনীতির এখন আমাকে প্রয়োজন, আমি সেবা দিতে ছুটে গিয়েছি। এখানে দল একটি মাধ্যম মাত্র, মূল জায়গাটি সেবার। দেশকে ভালোবেসে দেশের জন্য লিখেছি, কথা বলতে চেয়েছি। এটা যুদ্ধের মতোই। ইয়াহিয়ার বিরুদ্ধে গান লিখে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গান লিখে আমাকে আসামি হয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে। অনেক গায়ক, নায়ক, পরিচালকরা অনেক ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আলতাফ মাহমুদ, জহির রায়হানের মতো মানুষেরা হারিয়ে গেছেন। তারাও যোদ্ধা। যদিও আমি অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছি কিন্তু আমি মনে করি সশস্ত্র যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই আমরা অনেকে যোদ্ধা ছিলাম। যারা সংস্কৃতি দিয়ে যুদ্ধটা করেছি। বঙ্গবন্ধু আমাদের যুদ্ধটার মূল্যায়ণ দিতে পেরেছিলেন। তিনি সংস্কৃতির হাতিয়ারকে কাজে লাগাতে পেরেছেন এদেশের স্বাধীনতার জন্য। কষ্ট হয় ভাবলে, আমাদের সেই সংস্কৃতির আজ কী বেহাল দশা! সংস্কৃতি তার সঠিক জায়গায় নেই বলেই হয়তো রাজনীতি অবস্থাও আজ দুর্বল।

বর্তমানে গান বাজনা
শিল্প ও সংস্কৃতির দেয়ালে এখন হিসু করা হচ্ছে। অবাক হয়ে যাই, কীসব গান লেখা হচ্ছে এগুলো? তাও আবার সিগেমার মতো বিশাল ক্যানভাসে ছাড়া হচ্ছে এসব গান! কেন? উদ্দেশ্যটা কি। এগুলো কখনোই গান হতে পারে না। প্রেম, রোমান্স বা যাপিত জীবনের সবকিছুতেই একটা সৌন্দর্য আছে। সেটার প্রকাশ জানতে হবে। দেয়ালে হিসু করা নিয়ে যদি গান বানানো হয় আর সেটা প্রকাশও হয় তাহলে সংস্কৃতির সৌন্দর্যটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়। আমাদের গান, নাটক, সিগেমা, সাহিত্য যা কিছু সংস্কৃতি প্রায় সবখানেই সৌন্দর্য হারিয়ে গেছে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলতেন, গানকে পরিবারের মধ্যে আনতে হবে। কারণ গান পরিবার থেকে বিচ্যুত হলে তার আয়ু খুব কম। বা এভাবেও বলা যায়, যে গান পরিবারের মধ্যে বেঁচে থাকে সেই গানই কালজয়ী হয়। এজন্যই নজরুল-রবীন্দ্রনাথের গান কালজয়ী। কারণ তাদের গান পরিবার থেকে সারাদেশে ছড়াতো। যেমন একটা সময় ছিলো যখন যে বাড়িতে গ্রামোফোন থাকতো সে বাড়ির বউয়েরা সপ্তাহে একদিন পাশের বাড়ির বউদের নিয়ে আয়োজন করে গান শুনতেন। নতুন রবীন্দ্রসংগীত বা নজরুল সংগীত এসেছে বাজারে, আসুন একদিন শুনবেন বলে দাওয়াত দিতেন। বিশেষ রান্না বান্না চলতো। তো দুপুরে খাওয়ার পর সবাই গোল হয়ে বসতেন। বাড়ির গিন্নি গ্রামোফোনে একটা গান বাজিয়ে দিলেন। এখানে গ্রামোফোন থাকার একটা বড়াইও কিন্তু হতো। তো এভাবে যেটা হয়েছে অন্য বউরার তাদের বাড়িতে গিয়ে গ্রামোফোন কেনার বায়না ধরেছে, রবীন্দ্র-নজরুলের গানের ভক্ত হয়েছে। এক এক করে সব ঘরে ঘরে পৌঁছে গেল এ দুই কবির গান। এটাই কিন্তু হয়েছে এবং হয়।

যেসব গান পরিবারের মধ্যে সম্মান পেয়েছে সেগুলোই জনপ্রিয় হয়েছে, কালজয়ী হয়েছে। আর এখন দেয়ালে হিসু করার গান শুনতে হচ্ছে। এটি কি কোনো পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে বসে শুনবেন? আহা! খুব কষ্ট হয়।

প্রায়ই পার্টি আসে গান চাইতে। তাদের সঙ্গে কথা বলে এত হতাশ হই যে মাঝেমাঝে কাঁদতে ইচ্ছে করে। এ কেমন প্রজন্মে এসে পড়েছি। শিল্পচর্চায় জড়িত কিন্তু শিল্পটাই ধারণ করতে পারছে না। নাম নিতে চাই না কারো। শিখতে হবে। গান বাজনা, আচরণ; সব। শেখার জন্য কোনো আপোষ করা যাবে না। দেখুন, মহানবী (স.) বলে গেছেন, ‘তোমরা শেখার জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও।’ একথাটা তিনি কেন বলেছেন? কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, তার দেশে শেখার মতো যথেষ্ট তেমন কিছু নেই যা তার জাতিকে জ্ঞানে বুদ্ধিতে শ্রেষ্ট করে তুলবে। সে সময় চীনের সভ্যতা ছিলো বিখ্যাত। মানে হলো যেখানে সঠিক শিক্ষা পাওয়া যাবে সেখানে যেতে হবে। শিখতে হবে। না শিখে কেউ বাঁচবে না, গান, সংস্কৃতি কিছুই বাঁচবে না।

সিগেমার অবস্থা তো আরও ভয়াবহ। কি ইন্ডাস্ট্রি কি হয়ে গেল! কলকাতা এখন ভালো করছে। আমরা কেন পারছি না? আমাদের কি মেধা নেই? আমি মনে করি সব আছে। শুধু সমন্বয় নেই, প্রেজেন্টেশন নেই সঠিকভাবে। আসলে কিছুই ঠিক নেই। যেখানে যার থাকার দরকার সে সেখানে নেই। অনেকে বলে কেন প্রযোজনা করি না। কোথায় করবো? কি বানাবো? কাদের নিয়ে? সে ছবি চালাবো কোথায়। জানিনা উত্তরণ হবে কী করে। তবে হবে তো বৈকি। আশায় আছি।

তারকা সালমান শাহ
সালমানের মা নীলা চৌধুরীর সঙ্গে আমার খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো। বড় ভাইয়ের মতো শ্রদ্ধা করতেন। পারিবারিক সম্পর্ক। উনার স্বামী তো ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। চমৎকার মানুষ। এমন একটা শিক্ষিত পরিবারের ছেলে সালমান সিগেমায় এসেছে। ও খুব লাকি ছিলো। এসেই বাজিমাত করে দিলো। একেবারে সুপারস্টার বনে গেল। খুব চঞ্চল ছিলো। অস্থির। আমার ‘স্নেহ’ ছবিতে কাজ করেছে। এই দেখতাম গিটার নিয়ে দৌড়াচ্ছে, এই হোন্ডা। মানে বসতো না। আনন্দে ডুবে থাকতো। বাট কাজটা করতো মন দিয়ে। অভিনয়টা ওর স্বভাবজাত। যারা বলে সালমান মৃত্যুর পর তারকা হয়েছে তারা ভুল বলে, ইচ্ছে করে বলে। সালমান বেঁচে থাকতেই টপ হিরো ছিলো। ওর তারকা হয়ে উঠা অনেকের জন্য সমস্যা হয়ে গেল ইন্ডাস্ট্রিতে। অল্প দিনেই সবার নজর কেড়েছিলো। আবার যারা নতুন এসেছে তাদের জন্য সালমান ছিলো বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বীকৃতি ও অতৃপ্তি
আমৃত্যু গানের সঙ্গে থাকতে পারছি এটাকেই আমি জীবনের বা ক্যারিয়ারের জন্য সেরা স্বীকৃতি হিসেবে দেখি। এখনো তো গান লিখছি। সবার ভালোবাসায় কয়েক প্রজন্ম পেরিয়েও নতুন প্রজন্মের সঙ্গে লিখে যেতে পারছি। হয়তো খুব একটা খারাপ লিখছি না। গেল কয়েক বছরে কিছু সিগেমায় আমার গানগুলো শ্রোতাপ্রিয় হয়েছে। শ্রোতারা ভালোবেসেছেন, এটাই স্বীকৃতি। এছাড়া জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছি একাধিকবার, একুশে পদক দিয়েছে রাষ্ট্র; এগুলো প্রশান্তি দেয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদানের জন্য দেশের সর্বপ্রথম পুরস্কার বাংলাদেশ প্রেসিডেন্ট গোল্ড মেডেল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছি সেই ১৯৭২ সালে। দেশ-বিদেশে বহু পুরস্কার পেয়েছি। ভারত থেকেই প্রায় এক ডজন অ্যাওয়ার্ড আছে। আমার বারিধারার এই ঘর (বারিধারায়) ও মালিবাগের আরেকটা বাড়ি আছে সেখানে এক ঘর ভর্তি নানা রকম পুরস্কার আর স্বীকৃতি-সম্মাননায়।

এসব পুরস্কারের জন্য কাজ করিনি। আমার ধারণা কেউ করে না। এগুলো অনুপ্রেরণা হয়ে থাকে মাত্র। দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছি। এটাই বড় আনন্দ। স্বীকৃতির জন্য নীতি বা মূল্যবোধ বিসর্জান দেইনি কখনো। তাহলে অনেক বড় বড় সুযোগ জীবনে এসেছে, সেগুলো মিস করতে হতো না।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের একটা যুদ্ধ হয়েছিলো। সে যুদ্ধে ভারতের অনেক সৈনিক মারা যায়। তো আমাদের দেশ স্বাধীন হবার পর আমার কাছে প্রস্তাব এলো ওই যুদ্ধে শহীদ ভারতীয়দের জন্য একটি গান লিখে দিতে। অনেক বড় প্রজেক্ট। শহীদদের নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ হবে। সেখানে ফলকে লেখা থাকবে আমার লেখা গানটি। ভারতের এত নামি নামি লেখকদের ভিড়ে আমার জন্য এই কাজটি নিঃসন্দেহে অনেক বিশাল একটা অর্জন হতে পারতো।

তাছাড়া মিলবে অর্থ, পুরস্কার। কিন্তু আমি সেটা করিনি। কাজটি করিনি নীতির জায়গা থেকে। যারা প্রস্তাব দিয়েছিলো তাদের বুঝিয়ে বলেছিলাম যে যখন যুদ্ধটা হয় আমি তখন পাকিস্তানের নাগরিক। তো আমার রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে শহীদ হওয়াদের জন্য আমার গান লেখাটা মানায় না।

যে পরিচয়ে গর্বিত
অনেক আগে একবার আমেরিকায় আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে গেলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার। অনুষ্ঠানে যাবার পর দেখলেন সেখানে একমাত্র অতিথি তিনি। তার কথা শুনতে এসেছে প্রায় তিন হাজার প্রবাসী। নিজেকে খুব একটা ভালো বক্তা মনে করেন না এই গীতিকার। তাই একটু বিব্রত হলেন। ভাবছিলেন কি দিয়ে শুরু করবেন। হঠাৎ একজন দাঁড়িয়ে বললেন, ‘টেনশান করবেন না। আমরা খুব জ্ঞানী কথা শুনতে চাই না। আপনি আমাদের প্রিয় গীতিকবি। প্রিয় প্রিয় সব দেশের গান লিখেছেন আপনি। আজ আপনার কাছে বাংলাদেশের কথা শুনতে চাই, আপনার ব্যক্তি জীবন, পরিবার-পরিচয় জানতে চাই।’

নিজের কথা, নিজের দেশের কথা বলতে গিয়ে গাজী মাজহারুল আনোয়ার পেয়ে গেলেন দারুণ কিছু লাইন। তিনি বলতে শুরু করলেন-

‘যদি আমাকে জানতে সাধ হয়
বাংলার মুখ তুমি দেখে নিও
যদি আমাকে বুঝতে মন চায়
এ মাটির শ্যামলিমায় এসো প্রিয়
এখানে বৃষ্টি ঝরে রিমঝিম শ্রাবণের সেতারে
কুমারী নদীর বুক কেঁপে ওঠে প্রণয়ের জোয়ারে
যদি কখনও দেখতে সাধ হয়
আমার মনের চঞ্চলতা
তবে বরষার কোন নদী দেখে নিও’

নিজেই অবাক হলেন হঠাৎ করে এমন কিছু লাইন বলতে বলতে। পরে সেই কবিতাটি তিনি শেষ করেন এবং এটি গান হিসেবে প্রকাশ হয়। বলার অপেক্ষা রাখে না, এটিও একটি শ্রোতানন্দিত গান।

এলএ/এমএস

Monday, September 28, 2020

লতার জন্মদিনে স্মৃতিকাতর আশা

 

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মবার্ষিকী
আজ ২৮ সেপ্টেম্বর উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের জন্মবার্ষিকীকোলাজ

‘সারা দেশে অনেকেই এখন আমার জন্মদিন উদ্‌যাপন করছেন। আমার জন্য প্রার্থনা করছেন। ভালো লাগে। আমার ছোটবেলার জন্মদিনের কিছু স্মৃতি আছে। যেখানে জন্ম এবং বড় হওয়া, সেখানে ঘটা করে জন্মদিন পালন করা হতো না। তেমন রেওয়াজ ছিল না। জন্মদিনের দিন সকালে মা (শেবন্তী মঙ্গেশকর) পূজা করতেন। পূজা শেষ করে বাড়িতে তৈরি মিষ্টি কিছু খেতে দিতেন। এই স্মৃতিগুলো আমার কাছে সবচেয়ে আনন্দের।’ বছর দুয়েক আগে জন্মদিন উপলক্ষে সর্বভারতীয় সংবাদপত্র হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছিলেন উপমহাদেশের কিংবদন্তিতুল্য কণ্ঠশিল্পী লতা মঙ্গেশকর।

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর উপমহাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী লতা মঙ্গেশকরের ৯১তম জন্মবার্ষিকী। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রিয় সংগীতশিল্পীকে নিজের মতো করেই শুভেচ্ছা জানালেন তারকা, রাজনীতিবিদ ও ভক্তরা। বিভিন্ন ভাষায়, বিভিন্ন ধারার গানে যিনি আজও মুগ্ধ করে রেখেছেন বাংলার শ্রোতাসমাজকে। তাঁর জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তায় যেন উপচে পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। দিনের শুরুতে বোন আশা ভোসলে পুরোনো একটি ছবি আপলোড করে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। নব্বয়োর্ধ্ব সুরসম্রাজ্ঞী বোনকে নিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘দিদিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। গান আর লতা মঙ্গেশকরের নাম পরস্পর সংযুক্ত। এখানে আমাদের বোনদের ছবি, যেখানে দিদি সামনে বসে আছেন। আমি পেছনে দাঁড়িয়ে।’ এ ছবিটি শেয়ার করে বলিউডের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী এ আর রহমান শুভেচ্ছা জানিয়েছেন অগ্রজ শিল্পীকে।

তাঁর সংগীতজীবনের ৭৭ বছর পূর্ণ
তাঁর সংগীতজীবনের ৭৭ বছর পূর্ণ 
টুইটার

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি টুইট করে জানিয়েছেন, তাঁর প্রিয় লতা দিদির সঙ্গে কথা হয়েছে এবং তিনি তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছাও জানিয়েছেন, তাঁর দীর্ঘায়ু ও সুস্থ জীবনের জন্য প্রার্থনাও করেছেন প্রধানমন্ত্রী। সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন কামনা করে লতা মঙ্গেশকরকে শুভেচ্ছা জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন লতা মঙ্গেশকরকে। লিখেছেন ‘লতা মঙ্গেশকর গান দিয়ে সারা বিশ্বের জনগণের হৃদয়ে রাজত্ব করছেন, তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা। তাঁর সুস্থ জীবন এবং দীর্ঘ আয়ুর জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি।’ এ ছাড়া মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ার, মন্ত্রী অনিল দেশমুখ, একনাথ শিন্ডে, নওয়াব মালিক, নীতিন রাউত, এনসিপি প্রেসিডেন্ট শারদ পাওয়ার শুভেচ্ছা জানান লতাকে।

নিজের জন্মদিনের স্মৃতিচারণা করে এক সাক্ষাৎকারে লতা মঙ্গেশকর বলেন, ‘আমার বাবা যখন মারা যান, তখন আমার বয়স পাঁচ। বাবার (দীননাথ মঙ্গেশকর) মৃত্যুর পর আমাদের পারিবারিক অবস্থা খুবই সংকটপূর্ণ হয়ে পড়ে। মা আমাদের নিয়ে হিমশিম খেয়েছেন। তাই ওই সময় আলাদা করে জন্মদিন নিয়ে ভাবার সময় পাইনি। তবে আমার কাছে জন্মদিনের সেরা উপহার বাবা-মায়ের আশীর্বাদ। জন্মদিনে তাঁদের কথা বেশি মনে পড়ে।’

লতা, আশাদের পরিবার
লতা, আশাদের পরিবার
টুইটার
বিজ্ঞাপন

১৯২৯ সালে ভারতের ইন্দোরে জন্মেছিলেন লতা মঙ্গেশকর। তাঁর গান ভারত ছাপিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে বিশ্বসংগীতের দরবারে। লতার বয়স যখন মাত্র ১৩ বছর, ১৯৪২ সালের ২৪ এপ্রিল হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে তাঁর বাবা দীননাথ মঙ্গেশকর মারা যান। বাবার কাছেই ছোটবেলায় গানের অ আ শিখেছিলেন দুই বোন লতা ও আশা। তিনি ছিলেন শাস্ত্রীয় সংগীতশিল্পী ও মঞ্চের অভিনেতা।

মৃত্যুর সময় তেমন কিছু রেখে যেতে পারেননি দীননাথ। পাঁচ সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন লতাদের মা। কে ধরবে সংসারের হাল? গুরুদায়িত্বটা নিতে হলো কিশোরী লতাকে। সে সময় বাবার বন্ধু নবযুগ চিত্রপট চলচ্চিত্র কোম্পানির মালিক মাস্টার বিনায়ক পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। ছোটবেলায় মাঝেমধ্যে চলচ্চিত্রে গান গেয়েছেন লতা। কিন্তু বিনায়ক তাঁকে গান আর অভিনয়—দুটিকেই ক্যারিয়ার হিসেবে নিতে শেখালেন। মারাঠি চলচ্চিত্রে গাওয়া তাঁর ‘খেলু সারি মানি হাউস ভারি’ গানটি সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায়। দমে যাননি লতা। মাস্টার বিনায়ক তাঁর চলচ্চিত্র ‘পাহিলি মঙ্গলা-গৌর’-এ লতা মঙ্গেশকরের জন্য ছোট একটি চরিত্র রেখেছিলেন। এ চলচ্চিত্রে দাদা চান্দেকারের লেখা গান ‘নাটালি চৈত্রাচি নাভালাল’-এ কণ্ঠ দেন তিনি। তখনো চলছে তাঁর জীবনের সঙ্গে নিত্যদিনের যুদ্ধ। চলচ্চিত্রের জীবনকে কখনো আপন করে নিতে পারেননি তিনি।

১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমায় প্লেব্যাক করেন লতা মঙ্গেশকর
১৯৪২ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে মারাঠি সিনেমায় প্লেব্যাক করেন লতা মঙ্গেশকর
টুইটার
বিজ্ঞাপন

একদিন কাজ থেকে কাঁদতে কাঁদতে বাসায় ফিরলেন। মাকে বলেছিলেন, কৃত্রিম অভিনয়ের এ জগৎ তাঁর ভালো লাগে না। কিন্তু কিছু করার ছিল না। পরিবারের দায়িত্ব যে তাঁর কাঁধে! বসন্ত যুগলকরের ‘আপ কি সেবা ম্যায়’ চলচ্চিত্রে প্রথম হিন্দি ভাষার চলচ্চিত্রের জন্য গাইলেন ‘পা লাগো কার জোরি’ গানটি।

বিনায়কের মৃত্যুর পর সংগীত পরিচালক গুলাম হায়দার হন লতার গুরু। নিজের এক জন্মদিনে লতা বলেছিলেন, গুলাম হায়দার তাঁর জীবনে ‘গডফাদার’ ছিলেন। গুলাম হায়দারের হাত ধরে তাঁর জীবনে সুযোগ এল ‘মজবুর’ চলচ্চিত্রে ‘দিল মেরা তোড়া, মুঝে কাহি কা না ছোড়া’ গানটি গাওয়ার। এই এক গানের কারণেই বলিউড নতুন এই গায়িকাকে নিয়ে ভাবতে বাধ্য হয়। জীবনের প্রথম বড় ধরনের হিট ‘মহল’ চলচ্চিত্রের ‘আয়েগা আনেওয়ালা’ গানটি, যে গানে ঠোঁট মেলান মধুবালা।

লতা মঙ্গেশকর এ পর্যন্ত ভারত রত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন
লতা মঙ্গেশকর এ পর্যন্ত ভারত রত্ন, পদ্মবিভূষণ, পদ্মভূষণসহ অসংখ্য সম্মাননা পেয়েছেন
টুইটার

প্রথম আলো।

এক নজরে মাদক কেলেঙ্কারিতে নায়িকাদের স্বীকারোক্তি

 

শনিবারের দিনটা ভুলতে পারবেন না বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন, শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলী খান
শনিবারের দিনটা ভুলতে পারবেন না বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন, শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলী খানকোলাজ: আমিনুল ইসলাম

শনিবারের দিনটা ভুলতে পারবেন না বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোন, শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলী খান। এদিনটা আজীবন দাগ কেটে থাকবে তাঁদের মনে। কারণ, এদিন এই তিন তারকাকে মাদককাণ্ডে জেরা করেছে নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি)। এনসিবির যোগাযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনজনেরই দাবি, তাঁরা কেউ কখনোই মাদক নেননি। একনজরে জেরায় উঠে আসা নায়িকাদের স্বীকারোক্তির উল্লেখযোগ্য কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হলো।

বিজ্ঞাপন
পৌনে ১০টা নাগাদ এনসিবির দপ্তরে পৌঁছান দীপিকা
পৌনে ১০টা নাগাদ এনসিবির দপ্তরে পৌঁছান দীপিকা
এএফপি

যে ‘মাল’ চেয়েছিলেন, সে ‘মাল’ মাদক নয়, দাবি দীপিকার
কাল শনিবার পৌনে ১০টা নাগাদ এনসিবির দপ্তরে পৌঁছান দীপিকা। ছিমছাম পোশাক। তারকাসুলভ কোনো অভিব্যক্তি নেই। কালো চশমায় ঢাকা ছিল না চোখ। তবে মুখ ঢাকা ছিল মাস্কে। কোটি টাকার একাধিক বিলাসবহুল গাড়ির মালিক হলেও এদিন ‘হুন্দাই’–এর একটি ছোট গাড়িতে চড়ে এসেছিলেন দীপিকা। কেননা, এর আগে দামি গাড়িতে চড়ে এসে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন রিয়া চক্রবর্তী।
দুই দফা জেরা করা হয় দীপিকাকে। প্রথমে একা, পরে দীপিকার ম্যানেজার কারিশমা প্রকাশের মুখোমুখি বসিয়ে। এই দ্বিতীয় দফায় দীপিকা হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের কথা স্বীকার করেন। স্বীকার করেন, ওই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘এন’, ‘জে’, ‘এস’, ‘ডি’, ‘আর’, ‘কে’র মধ্যে মাদক পরিবহন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। আর এই ‘ডি’ অক্ষরের পেছনে দীপিকারই নাম প্রকাশ করা হয়েছে। আর ‘কে’-এর নাম কারিশমা। ওই চ্যাটে দীপিকা কারিশমাকে লিখেছিলেন, ‘মাল হ্যায় ক্যায়া?’ (মাল আছে?) দীপিকা জেরায় জানিয়েছেন, তিনি যে ‘মাল’ চেয়েছিলেন, তা মাদক নয়। তাঁর দাবি, তিনি জীবনেও মাদক নেননি। অন্যদিকে দীপিকার ম্যানেজার জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ছয়বার দীপিকাকে মাদক সরবরাহ করেছেন।

বিজ্ঞাপন
সারা আলী খান
সারা আলী খান
সংগৃহীত

পার্টি করেছেন, সিগারেট খেয়েছেন, তবে মাদক নেননি
সারা আলী খানও বেলা একটায় একেবারে সাদামাটা সালোয়ার–কামিজে, চশমা চোখে, কাঁধে একটা বড় ব্যাগ ঝুলিয়ে ঢোকেন এনসিবির দপ্তরে। জেরার মুখে তিনি সুশান্তের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। জানিয়েছেন, ‘কেদারনাথ’ ছবির শুটিংয়ের সময় তিনি প্রেম করেছেন সুশান্তের সঙ্গে। এরপর তাঁরা একসঙ্গে প্রচুর পার্টিও করেছেন। ঘুরেও বেড়িয়েছেন। তবে কখনো মাদক নেননি। এই পর্যায়ে একটা ভিডিও দেখানো হয়, যেখানে সারা আর সুশান্ত— দুজনের হাতেই সিগারেট। এরপর সারা জানান, তিনি সিগারেট খেয়েছেন। তবে সেটি ‘নির্দোষ’ সিগারেট। বলেন, তিনি মাঝেমধ্যে ধূমপান করেন। তবে মাদক নেন না।

বিজ্ঞাপন

‘সিবিডি অয়েল’ বিষয়ে বললেন শ্রদ্ধা
এদিকে শ্রদ্ধার জবাবে সন্তুষ্ট নন এনসিবি কর্তারা। দুপুর ১২টা নাগাদ এনসিবি দপ্তরে পৌঁছান তিনি। জয়া সাহার সঙ্গে শ্রদ্ধা কাপুরের ‘সিবিডি অয়েল’ (গাঁজা থেকে তৈরি ভাংজাতীয় একধরনের মাদক)–বিষয়ক চ্যাটের বিষয়ে প্রশ্ন করলে, এক পর্যায়ে তা স্বীকার করেন শ্রদ্ধা। তবে স্বাস্থ্যগত কারণে তিনি এটি গ্রহণ করতেন বলে জানান।

সিবিডি ওয়েল নিতেন শ্রদ্ধা, জেরার মুখে স্বীকার করেছেন
সিবিডি ওয়েল নিতেন শ্রদ্ধা, জেরার মুখে স্বীকার করেছেন
এএফপি

বাড়িতে মাদক রাখলেও চেখে দেখেননি রাকুল
এদিকে শুক্রবার নারকোটিকস কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবির) দপ্তরে গিয়েছিলেন রাকুল প্রীত সিং। সেখানে চার ঘণ্টার জেরায় অংশ নেন তিনি। রাকুলের কাছে ‘ডুবি’ আছে কি না, জানতে চেয়েছিলেন রিয়া। রাকুল জানান, সেটা তাঁর বাড়িতেই আছে। আরও জানান, ‘ডুবি’ হাতে বানানো একধরনের সাধারণ সিগারেট। এর ভেতরে গাঁজা বা অন্য কিছু নেই। রাকুল আরও জানান, রিয়া তাঁর বাড়িতে মাদক রাখতেন। কিন্তু তিনি কখনো চেখে দেখেননি।

বিজ্ঞাপন

তিন নায়িকার জিজ্ঞাসাবাদ পর্ব শেষ হয় শনিবার বিকেলে। তারপর সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এনসিবির ডেপুটি ডিরেক্টর জেনারেল মুথা অশোক জৈন। এনসিবির তরফে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিও দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়, রোববার দীপিকা, সারা, শ্রদ্ধা ও দীপিকার ম্যানেজার কারিশমা প্রকাশকে ডাকা হবে না। তাঁদের প্রত্যেকের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে। আপাতত তা খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে সারা আর শ্রদ্ধা দুজনেই এনসিবিকে বলেছেন, ‘কেদারনাথ’ ও ‘ছিছোরে’র শুটিংয়ে মাদক নিয়েছেন সুশান্ত।

Protham Alo

Saturday, September 26, 2020

মাদক কেলেঙ্কারিতে দীপিকাকে জেরা, পাশে নেই রণবীর

 

মাদক কেলেঙ্কারিতে দীপিকাকে জেরা
মাদক কেলেঙ্কারিতে দীপিকাকে জেরাকোলাজ: আমিনুল ইসলাম

প্রথাম আলোঃ

ভারতীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরে দীপিকা তাঁর কালো রঙের মহারাষ্ট্র ০১ডিবি১৪৮৯ নম্বর গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে পড়ছেন জিজ্ঞাসাবাদকক্ষের দিকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন না স্বামী রণবীর সিং।

মাদক কেলেঙ্কারিতে একের পর এক বলিউড তারকার নাম উঠে আসছে। ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর (এনসিবি) তদন্তে এমন তারকাদের নাম উঠে আসছে যে শুনে চোখ কপালে উঠে যায়। ইতিমধ্যে মাদক কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকায় বলিউড অভিনেত্রী রিয়া চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মাদক কেলেঙ্কারিতে এ মুহূর্তে সবচেয়ে অবাক করার মতো নামটি হলো দীপিকা পাড়ুকোন।

 সকাল ১০টায় সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে এনসিবির গেস্ট হাউসে পৌঁছান দীপিকা
সকাল ১০টায় সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে এনসিবির গেস্ট হাউসে পৌঁছান দীপিকা
ইনস্টাগ্রাম

সংশ্লিষ্ট সংস্থা থেকে আগেই সমন পাঠানো হয়েছিল। মানসিক অবসাদের কারণ দেখিয়ে দীপিকার পক্ষে আবেদন করা হয়েছিল, যেন তাঁকে সশরীর জেরা থেকে দূরে রাখা হয়। সে আবেদন টেকেনি। তাই বাধ্য হয়ে অবশেষে আজ দীপিকা পাডুকোন হাজির হলেন তদন্ত কমিটির সামনে। সকাল ১০টায় সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে দক্ষিণ মুম্বাইয়ে এনসিবির গেস্ট হাউসে পৌঁছান দীপিকা।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের খবরে দেখা যায়, মুখে মাস্ক পরে দীপিকা তাঁর কালো রঙের মহারাষ্ট্র ০১ডিবি১৪৮৯ নম্বর গাড়ি থেকে নেমে সোজা ঢুকে পড়ছেন জিজ্ঞাসাবাদকক্ষের দিকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন না স্বামী রণবীর সিং। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দীপিকাকে ভেতরে নিয়ে যান নিরাপত্তাকর্মীরা। দীপিকা পাড়ুকোনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। দলের নেতৃত্বে রয়েছেন মামলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে পি এস মালহোত্রা। উপস্থিত রয়েছেন নারী কর্মকর্তাও।

রাকুলের দাবি যে এই মাদক রিয়া চক্রবর্তী তাঁকে রাখতে দিয়েছিলেন। এনসিবি এই বলিউড নায়িকার বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করেছে।
দীপিকাকে জেরা, পাশে নেই রণবীর
দীপিকাকে জেরা, পাশে নেই রণবীর
ইনস্টাগ্রাম

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত খবরের সূত্রে জানা গেছে, আজ দুপুরের পর যেকোনো সময় অভিনেত্রী শ্রদ্ধা কাপুর ও সারা আলী খানও আসবেন এনসিবির কার্যালয়ে। গতকাল শুক্রবার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় রাকুলপ্রীত সিং, দীপিকার ম্যানেজার কারিশমা প্রকাশ এবং ধর্ম প্রোডাকশনসের কার্যনির্বাহী প্রযোজক খিতিজ রবিকে।

প্রায় চার ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ চলে। আর রাকুল নাকি এনসিবির জেরার মুখে তাঁর বাসায় মাদক রাখার কথা স্বীকার করেছেন। রাকুলের দাবি যে এই মাদক রিয়া চক্রবর্তী তাঁকে রাখতে দিয়েছিলেন। এনসিবি এই বলিউড নায়িকার বাসা থেকে মাদক উদ্ধার করেছে।

 ‘ডি’ অক্ষরের পেছনে দীপিকারই নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
‘ডি’ অক্ষরের পেছনে দীপিকারই নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
ইনস্টাগ্রাম
বিজ্ঞাপন
গত সপ্তাহে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক চ্যানেল তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ড্রাগ চ্যাটে ‘ডি’, অর্থাৎ দীপিকা ড্রাগ চেয়ে পাঠিয়েছেন ‘কে’-এর কাছে। কে এই ‘কে’?

এর আগে এনসিবির ড্রাগ চ্যাট তদন্তে দেখা গেছে ‘এন’, ‘জে’, ‘এস’, ‘ডি’, ‘আর’, ‘কে’র মধ্যে মাদক পরিবহন নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। আর এই ‘ডি’ অক্ষরের পেছনে দীপিকারই নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

গত সপ্তাহে ভারতের শীর্ষস্থানীয় এক চ্যানেল তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, ড্রাগ চ্যাটে ‘ডি’, অর্থাৎ দীপিকা ড্রাগ চেয়ে পাঠিয়েছেন ‘কে’-এর কাছে। কে এই ‘কে’? এই ‘কে’-এর নাম কারিশমা, যিনি ট্যালেন্ট ম্যানেজমেন্ট এজেন্সিতে কাজ করেন। দীপিকার জবাবে কারিশমা জানান, ‘আছে, কিন্তু আমার বাসায়। আমি এখন বান্দ্রায়।’ কারিশমা আরও বলেছেন, ‘যদি বলেন তো অমিতকে জিজ্ঞেস করতে পারি।’ দীপিকা পাল্টা জবাব দেন, ‘হ্যাঁ, প্লিজ।’ কারিশমা উত্তরে বলেন, ‘অমিতের কাছে আছে, সে নিয়ে যাচ্ছে।’ দীপিকা বলেন, ‘হ্যাশ, বিড না।’ এসব সূত্রে আজ দীপিকাকে যেতে হলো তদন্ত কমিটির সামনে।

সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এনসিবি হৃতিক রোশন, রণবীর সিং, শহীদ কাপুর আর অর্জুন রামপালকে সমন পাঠাতে পারে
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এনসিবি হৃতিক রোশন, রণবীর সিং, শহীদ কাপুর আর অর্জুন রামপালকে সমন পাঠাতে পারে
ইনস্টাগ্রাম

প্রসঙ্গত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরোর পক্ষে মাদক নিয়ে তদন্ত চলাকালীন দুটো এফআইআর করা হয়েছে। এর আগে ইডির বাজেয়াপ্ত করা রিয়ার ফোনে মাদক চ্যাটের জন্য রিয়াসহ মোট ছয়জনের নামে এফআইআর করা হয়।

বিজ্ঞাপন

এনসিবির তালিকায় মুম্বাইয়ের বিনোদনজগতের ৫০ জনের বেশি অভিনয়শিল্পীর নাম আছে। বেরিয়ে আসছে আরও অনেকের নাম। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, এনসিবি হৃতিক রোশন, রণবীর সিং, শহীদ কাপুর আর অর্জুন রামপালকে সমন পাঠাতে পারে।

এনসিবি হৃতিক রোশন, রণবীর সিং, শহীদ কাপুর আর অর্জুন রামপালকে সমন পাঠাতে পারে
এনসিবি হৃতিক রোশন, রণবীর সিং, শহীদ কাপুর আর অর্জুন রামপালকে সমন পাঠাতে পারে
ইনস্টাগ্রাম

জানা গেছে, এই সংস্থা বলিউড ড্রাগ মাফিয়া নেক্সসের সঙ্গে হৃতিকের সংযোগ নিয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। ২০১৭ সালে এই বলিউড সুপারস্টার শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে বিরতি নিয়েছিলেন। আর ওই সময় হৃতিক লীলাবতী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন।

এ ঘটনার দিকে যাঁরা তাকিয়ে আছেন, তাঁরা আছেন আরও কত কী দেখতে হয় সেই অপেক্ষায়।

আজ মা-বাবার কাছে ফিরবেন আরিয়ান।

ছেলেকে আর্থার রোড জেল থেকে বের করে আনতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন শাহরুখ। দেশের বড় আইনজীবীদের নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। কারণ, এর আগে নিম্ন আদালতে আরি...